কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৪

কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ আর স্কোয়াডের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত শুক্রবার রাতে নগরের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে কুমিল্লা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন ‘র’ গ্যাংয়ের সাইফুল ইসলাম , ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) এবং রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’)।

পুলিশের ভাষ্য, রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ৯টি মামলা রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টি। ‘পয়েন্ট সাব্বির’ ও ‘কিং মেকার’ নবীর একটি করে মামলা রয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, রতনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে গতকাল রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। শনিবার সকালেও অভিযান চলছিল। পুলিশের দাবি, নগরে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে রতনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগরের উদ্যানের সামনের সড়কে প্রকাশ্যে শাহাদাত হোসেন নামের এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় রতনের নাম আসে। ওই মামলায় র‌্যাব ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। র‌্যাব তখন জানিয়েছিল, মামলার প্রধান আসামি রতন ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান ওই হত্যাকা-ের হোতা। এরপরও নগরে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার বিভিন্ন ঘটনায় রতনের নাম আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নগরের সার্কিট হাউজ মোড়ে রতন ও ইগল গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুপক্ষের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নগরের রানীর দীঘিরপাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন রাতে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে রতনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, কুমিল্লায় আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকা-ের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। পাঁচ দফার অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চার দফায় ১ হাজার ৬৭২ জন এবং পঞ্চম দফায় শুক্রবার রাতে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়।

২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির মিছিলে রতনের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গত বুধবার কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মহসিনের সঙ্গে রতনের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে নগরে আলোচনা তৈরি হয়।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের (পিপিএম) নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে। অভিযানে আটক দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় অনেককে লিখিত মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।