দক্ষিণ কোরিয়ার সোনার হাসি ম্লান হলো পতাকা বিভ্রাটে

শুরুতে জাতীয় সংগীতের ভুল আর শেষটায় গিয়ে পতাকা আটকে যাওয়ার বিড়ম্বনা, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়ার পদক জয়ের উৎসবগুলোকে যেন নিয়ম করে মাটি করে ছাড়ল আয়োজকদের বিতর্কিত সব ভুল। জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবলে সেরার মুকুট পরার আনন্দের দিনেও পতাকা বিভ্রাটের মতো কাণ্ডে চটেছে কোরিয়ান শিবির।

এশিয়ান গেমসের শেষ দিনে টয়োটা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জিতেছে কোরিয়ানরা। দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করে শিরোপা নিশ্চিত করেন উম জি-সাং। কিন্তু ম্যাচ শেষের জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের সময় আয়োজকদের ভুলের মুখে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। 

জাতীয় সঙ্গীতের সময় বাকি দেশগুলোর পতাকা নিয়মমাফিক উড়লেও, দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা তুলতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খান নিযুক্ত কর্মীরা। খুঁটির মাঝে পতাকা আটকে থাকার এই  দৃশ্য দেখে গ্যালারিতে উপস্থিত কোরিয়ান সমর্থকরা তীব্র দুয়ো দিতে থাকেন। যদিও পরবর্তীতে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার অনেক পরে পতাকাটি সঠিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয়, ততক্ষণে পুরো উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে যায়।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের অধিনায়ক লি গি-হিউক। কোরিয়ান গণমাধ্যম ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনের সূত্র মতে, গি-হিউক নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উদযাপনের উপলক্ষ হওয়া উচিত। আমরা এখানে আসার জন্য অনেক পরিশ্রম করি, এটা খুবই হতাশাজনক ছিল যে তারা ঠিকভাবে পতাকা তুলতে পারল না। আমার ধারণা, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি যে সমর্থকেরা আমাদের সমর্থন করতে এত দূর থেকে এসেছেন, তারাও এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই অখুশি হয়েছেন।’ 

এবারের আসরে অবশ্য কেবল এই একটি ঘটনাই নয়, শুরু থেকেই নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ছিল এশিয়ান গেমস। গেমসের শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের আবাসন এবং যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। এমনকি এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার হকি দলের একটি ম্যাচের শুরুতে তাদের জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তে ভুলবশত প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মতো গুরুতর ভুলও করেছিল আয়োজকরা।

এদিকে এমন কাণ্ডেএশিয়ার এই ক্রীড়াযজ্ঞের সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে বেজায় চটেছেন দেশটির অলিম্পিক কর্মকর্তারাও। গেমসের ব্যবস্থাপনার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কোরিয়ান স্পোর্ট অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট রিউ সিউং-মিন আসরের প্রথম সপ্তাহেই বলেছিলেন, আয়োজকদের যদি কোনো গ্রেড দিতে বলা হয়, তবে তিনি নির্দ্বিধায় সেটিকে ‘এফ’ গ্রেড দেবেন। 

মাঠের পারফরম্যান্সের সোনালী সাফল্যে দক্ষিণ কোরিয়া আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ করলেও, আয়োজকদের একের পর এক ভুল এশিয়ান গেমসের সমাপ্তিটাকে এক অস্বস্তিকর বিতর্কে পরিণত করল।