কেন মার্কিন হামলার শঙ্কায় কানাডা?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার পরিস্থিতিও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বিবেচনায় নিচ্ছে কানাডা। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, এমন হামলার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। খবর বিবিসির।  

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় সম্ভাব্য সব ঝুঁকি বিবেচনা করা সরকারের দায়িত্ব। তাঁর ভাষায়, এটি মূলত ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার’ অংশ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার বারবার প্রস্তাবের পর দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি বেড়েছে। যদিও ২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রায় নেই; রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক চাপই অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আগ্রাসনের সম্ভাবনা খুবই কম। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করে আসছে।

জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর, লেজার পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৩০ শতাংশেরও বেশি কানাডিয়ান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে এই জনমতকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বাস্তব পূর্বাভাস হিসেবে না দেখে, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কানাডীয়দের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের সম্ভাবনা খুবই কম হলেও, এমন পরিস্থিতির জন্য কানাডার প্রস্তুতি বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের অধ্যাপক ম্যাথিউ শ্মিট। তাঁর মতে, এতে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা নিয়েও কানাডাকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

কানাডার সামরিক মডেল অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করতে পারে। এরপর কানাডার বাহিনী গেরিলা-ধাঁচের প্রতিরোধে যেতে পারে এবং ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ মিত্রদের সহায়তা চাইতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সামরিক মডেলিং। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় কানাডা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনী বড় করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কানাডায় হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সহজ হবে না। রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে এমন যুদ্ধের বিরোধিতা তৈরি হতে পারে। শ্মিটের মতে, যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দ্রুত অচল করার দিকে নজর দিতে পারে।

তবে সামরিক শক্তিতে ব্যাপক ব্যবধান থাকলেও কানাডার সেনারা উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।