ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলটকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ায় তদন্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা সহকারী পাইলটের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির। 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ওই সহকারী পাইলট ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার এর উপর হামলা করেন। একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে গেলে যাত্রীরা হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন। পরে দুই রিজার্ভ পাইলট উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান। 

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) জানিয়েছে, তারা ওই সহকারী পাইলটের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে। তদন্তে দেশটির রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাও যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সহকারী পাইলট ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা পান এবং ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন। ২০১৯ সালে তার ভিসা বাতিল করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা দেশটিতে থাকাকালে তিনি উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছে এবিসি।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বলেছেন, ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ওমান এয়ারে কাজ করার সময় ওই ব্যক্তিকে উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে পাইলট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে দূরশিক্ষণে পড়াশোনা করেন এবং ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে স্নাতক হন। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, সেখানে তিনি কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।