ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। রবিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। এদিন টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের আটক করেছে পুলিশ। খবর রয়টার্সের।
মুম্বাইয়ে বিরোধী নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ হয়। তারা ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।
নয়াদিল্লিতেও সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। গত দুই দিনে রাজধানীতে গণসমাবেশ নিষিদ্ধের নির্দেশ ভঙ্গের অভিযোগে কয়েক ডজন মানুষকে বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে লাখো যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মুম্বাইয়ের সমাবেশে রাজ ঠাকরে বলেন, দেশের ক্ষমতায় কে থাকবে, তা জনগণই ঠিক করবে—নির্বাচন কমিশন নয়।
আগামী দিনগুলোতে বিক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। বিরোধী দলগুলোর জোট সোমবার ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া জেন জি ককরোচ জনতা পার্টি ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে।
মোদির ১২ বছরের শাসনামলে তরুণদের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এসব বিক্ষোভকে অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জুলাইয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।