সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপনের ব্যাখ্যা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটি বলছে, দীর্ঘদিনের পাওনা আদায়ের চেষ্টা, দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ, আইনগত প্রক্রিয়া ও সালিশি কার্যক্রম শেষে বিধিবিধান মেনেই অনাদায়ী ঋণ অবলোপন করা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান এ কথা জানান। এ সময় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) ফয়েজ আলম, নুরুল হুদা, তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান মোহাম্মাদ আনিসসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবেও গুরুত্ব পেয়েছে এবং এ কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশির স্বার্থ বিবেচনায় দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, আমিরাতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ব্যাংকের পুরোনো একটি ঋণসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে ওই ঋণের বিষয়টি ১৯৮৯ সালের নভেম্বরেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। অথচ প্রতিবেদনে বিষয়টি নিষ্পত্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন না করে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিনি ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক পিএলসি বলেছে, সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনে কিছু তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে শেখ খলিফা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্স মরিস ও মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজের ঋণসংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রয়াত ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ঋণগ্রহীতা ছিলেন শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান। ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতিতে ১৯৮৯ সালের সালিসি আদালতের নির্দেশনার আলোকে ২০০৩ সালেই ওই ঋণের চূড়ান্ত দায় নিষ্পন্ন হয়েছে।
তিন ভারতীয় নাগরিক নিয়োগের বিষয়ে ব্যাংক জানিয়েছে, ইউএইতে স্থানীয়ভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখাসমূহের স্থানীয় নিয়োগসংক্রান্ত কর্মী সেবা বিধিমালা অনুসরণ করা হয়। বিদেশে স্থানীয়ভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসি) এসআরএল বন্ধের বিষয়ে ব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানানো হলে দেশে প্রবাসী আয় প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না করে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বর্তমানে ইতালিতে প্রবাসী আয় সংগ্রহ বাড়াতে এজেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম চালুসহ প্রতিষ্ঠানটিকে ধীরে ধীরে লাভজনক করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে অস্তিত্বহীন বলা ছয়টি ল্যাপটপের বিষয়ে ব্যাংকের দাবি, ল্যাপটপগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে এবং সেগুলো ব্যাংকের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ইতোমধ্যে নিষ্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছে ব্যাংক।