টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত রিপোর্টের বিষয়ে জনতা ব্যাংকের বক্তব্য

সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে জনতা ব্যাংক পিএলসির ইউএই-এর ব্যাংকিং অপারেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়। উক্ত প্রতিবেদনে সাবেক দুবাই শাসক শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান ও শেখ খলিফা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্স মরিস ও মেট্রোপলিটন এন্টারপ্রাইজের নামে অনুমোদিত ঋণের অবলোপনের বিষয় উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে ইউএই-এর প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ছবি সম্প্রচার করা হয়, যেখানে প্রকৃত ঋণগ্রহিতা ছিলেন শেখ খলিফা বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান। দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতিতে ১৯৮৯ সালের আরবিট্রেশন কোর্টের নির্দেশনার আলোকে ২০০৩ সালে উক্ত ঋণের চূড়ান্ত দায় নিষ্পন্ন হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতীত ৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিয়োগের বিষয় উল্লেখ করা হয়। 

এ বিষয়ে ব্যাংকের বক্তব্য হলো, জনতা ব্যাংক পিএলসির ইউএই অপারেশনে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত জনতা ব্যাংক, ইউএই শাখাসমূহ, স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে Employees Service Regulations-1982 অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদেশে স্থানীয়ভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি গ্রহণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।  

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসি) এসআরএল ইতালি বন্ধের নির্দেশনার কথাও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে ব্যাংকের বক্তব্য—জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (জেইসি) এসআরএল ইতালির কার্যক্রম বন্ধ করার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করা হলে তারা দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব এবং বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এটি অবসায়ন না করে চালু রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ইতালিতে রেমিট্যান্স সংগ্রহ বৃদ্ধি করার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে এবং ক্রমান্বয়ে লাভজনক অবস্থায় উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে ৬টি অস্তিত্বহীন ল্যাপটপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে এবং ব্যাংকের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে ২০২৩ সালে সংঘটিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে নিষ্পন্ন হয়ে গেছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়্যাল ফ্যামিলির একজন সদস্যের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে নিষ্পন্ন (Settled) বিষয়ে এ ধরনের একটি রিপোর্ট দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রায় ১২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর বিশাল শ্রমবাজারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত থাকায় এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রচারের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা ও তথ্যনির্ভরতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হলো।