চট্টগ্রামে অভিযানের খবর পেয়ে মালামাল ঢেকে পালাল হকাররা

চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট ও কোতোয়ালি এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে অভিযানের খবর পাওয়ামাত্রই পলিথিন ও কাপড় দিয়ে তড়িঘড়ি মালামাল ঢেকে পালিয়েছেন হকাররা।
 
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকালে সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
 
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে যানজট। বিশেষ করে নিউ মার্কেট থেকে কোতোয়ালি পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে হকারদের দখলের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ জনদুর্ভোগ লাঘবে চউক ভবন ও বিপণী বিতান (নিউ মার্কেট) সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দেন সিডিএ চেয়ারম্যান।
 
MixCollage-04-Oct-2026-09-18-PM-346
 
সিডিএ জানায়, রবিবার সকালে হকারদের নিজ নিজ দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালামাল না সরানোয় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিডিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হকার প্লাস্টিক ও কাপড় দিয়ে মালামাল ঢেকে দ্রুত সটকে পড়েন।
 
অভিযান শেষে বিপণী বিতান বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন  চেয়ারম্যান। বৈঠক শেষে এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু হকার আবার দোকান বসানোর চেষ্টা করছে। পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় তাদের আবারও সরিয়ে দেওয়া হয়।
 
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, 'সিডিএ ভবন ও বিপণী বিতান সংলগ্ন ফুটপাত এবং সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে মানবিক ও সমন্বিতভাবে দেখা হবে।'
 
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'হকার নেতারা আগামীকাল থেকে না বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রাখলে বিষয়টি সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোবে। তবে পুনরায় ফুটপাত দখল করলে সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কঠোর উচ্ছেদ অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
 
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ. এ. এম. হাবিবুর রহমান, মোহাং মনজুর হাসান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন ও সচিব নূর-ই-জান্নাত রুমিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।