মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নই চ্যালেঞ্জ

সময়ের সাথে আগামীর পথে নগরীর ভূ-প্রকৃতিগত অনেক পরিবর্তন হয়। আর এই পরিবর্তনের প্রধান বাহক হলো নাগরিক সমাজের কর্মকা-। নাগরিক কর্মকান্ডে যখন একটি নগরীর পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন হয় তখন আমরা তাকে বলি নগরায়ণ। যদি তা ব্যাকরণের নিয়ম ধরে প্রবৃদ্ধি ঘটে, তখন তাকে পরিকল্পিত নগরায়ণ বলা হলেও এর ব্যত্যয় ঘটলে বলি অপরিকল্পিত নগরায়ণ। পাহাড়, নদী ও সাগরবেষ্টিত এই চট্টগ্রাম অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফসল। এখন এই অপরিকল্পিত নগরায়ণকে পরিকল্পনার ছকে আবৃত করতে ২৫ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্তকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি বছরেই তা চূড়ান্ত রূপ নেবে।

এই মাস্টারপ্ল্যানের আগে চট্টগ্রামের সর্বপ্রথম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন হয়েছিল ১৯৬১ সালে। সেই মাস্টারপ্ল্যানের গাইড লাইনের আলোকে ১৯৬৫ সালে একটি রিভিও প্ল্যান হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন হয়েছিল। সেই মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে ২০০৮ সালে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন হয়। ২০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ড্যাপের গাইডলাইন অনুযায়ী এখনো নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনার রুটিন কাজ চলছে। এবার ২০২৬ সালে প্রণীত হতে যাচ্ছে ২৫ বছর মেয়াদি (২০২৫-২০৫০) মাস্টারপ্ল্যান। ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বাজেটের সেই মাস্টারপ্ল্যানের নতুন দিক কী? আমরা আগেও দেখেছি ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। মাস্টারপ্ল্যানে ফ্লাইওভার বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কথা উল্লেখ না থাকলেও সিডিএ তা করেছে। একইভাবে নগরীতে নতুন একাধিক খাল খননের কথা এবং নর্দার্ন হিল নামের উত্তরের হিলগুলো সংরক্ষণের কথা বলা হলেও সিডিএ নিজেই পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করেছে। প্রাকৃতিকভাবে পানি ধারণক্ষমতার জায়গাগুলোতে সিডিএ আবাসিক এলাকার প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দিয়েছে। এমন অনেক অসঙ্গতি খোদ সিডিএ করেছে। সিডিএ’র ধারবাহিকতায় এই নগরীর প্রভাবশালী নাগরিকরাও মাস্টারপ্ল্যানের গাইড লাইন লঙ্ঘন করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। এবারও কি তাই হবে? এ ছাড়া সিডিএ’র বর্তমান জনবল দিয়ে এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না তা নিয়েও অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

থাকছে না প্লট টু প্লট নির্দেশনা

২০০৮ সালের ড্যাপে প্রতিটি বিএস দাগ নম্বরের প্লট কী কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, এর একটা গাইডলাইন ছিল। কিন্তু এবারের মাস্টারপ্ল্যানে সেই গাইডলাইন নেই। উদাহরণ হিসেবে উত্তর বা দক্ষিণ পতেঙ্গার ৭৪৫ বিএস দাগ নম্বরের প্লটটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে ড্যাপে। ফলে এই দাগ নম্বরের ভূমিতে আবাসিকের বাইরে অন্য কোনো ভূমি ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এবারের মাস্টারপ্ল্যানে এমন নির্দেশনা নেই। এবার সেই ৭৪৫ নম্বরের দাগ নম্বরের ভূমিতে রয়েছে জেনারেল আরবান ইউজ। এই জেনারেল আরবান ইউজ কথার অর্থ কি জানতে চাইলে আবু ঈসা আনসারী বলেন,‘এমন প্লটের ভূমিতে আবাসিক বা বাণিজ্যিক বা মিশ্র ভূমি ব্যবহার করা যাবে। ভূমি মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা নির্ধারিত প্লটে শিল্প ছাড়া অন্য যেকোনো ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, এবার এমন নির্দেশনা দেয়ার কারণে নগরবাসীর স্বাধীনতা অনেক বেড়ে যাবে। রাস্তার প্রশস্ততা বিবেচনা করে ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে।

বিলুপ্ত হচ্ছে ড্যাপ আসছে অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান 

এবারের মাস্টারপ্ল্যানের সাথে ১৯৯৫ মাস্টারপ্ল্যানের মৌলিক পার্থক্য কি তা জানতে কথা হয় মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক আবু ঈসা আনসারীর সাথে। তিনি বলেন, মাস্টারপ্ল্যান মানেই হলো পুরো নগরীর প্ল্যান। ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে চারটি (স্ট্রাকচারাল, ড্রেনেজ, ট্রান্সপোর্টেশন ও আরবান এরিয়া প্ল্যান ) খন্ড ছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান ( ড্যাপ ) প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ছয়টি খন্ড তৈরি করছি। স্ট্রাকচারাল প্ল্যান, অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান, ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান, ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টারপ্ল্যান, সাসটেনেবল এনভায়রনমেন্টাল প্ল্যান এবং অর্গানাইজেশনাল এরেঞ্জড টু ইমপ্লিমেন্ট দ্যা মাস্টারপ্ল্যান।

তাহলে কি ড্যাপ বিলুপ্ত হচ্ছে ? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ড্যাপ বিলুপ্ত হচ্ছে। ড্যাপ বিলুপ্ত হলেও তা বাতিল হবে না। মূলত: ড্যাপের গাইডলাইন কিংবা কমপোনেন্টগুলো স্ট্রাকচারাল মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় থাকবে। তবে বিগত সময়ের ভূমি ব্যবহার, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং আগামীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। এছাড়া কোনো এলাকা ব্যাপকভাবে প্ল্যান করতে আমরা অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান করছি। সিডিএ’র আওতাধীন এলাকার মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিনটি এলাকায় আমরা অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান করেছি।

অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান মূলত কি ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো একটি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা করাকে মূলত অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান বুঝায়। যেমন- জেলা প্রশাসন এখন জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় কারাগার স্থানান্তর করতে চায়। এখন পুরো জঙ্গল ছলিমপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট, আবাসিক, বাণিজ্যিক স্থাপনা নিয়ে ডিটেইলস প্ল্যান করাকে বলা হয় অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান। মাস্টারপ্ল্যানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নগরীর প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করে নগরীর তিনটি অংশের এমন অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান তৈরি করে দেবেন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায়।

তিন এলাকায় অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান

মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে নগরীর তিনটি এলাকার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান করা হয়েছে। এই তিনটি এলাকার প্ল্যানকে বলা হচ্ছে অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান। বাকলিয়া, আগ্রাবাদ ও আনোয়ারা এই তিনটি এলাকার জন্য করা হচ্ছে অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান। এই প্ল্যানের আওতায় কি হবে জানতে চাইলে আবু ঈসা আনসারী বলেন, আগ্রাবাদ ডেবা, সরকারি বহুতল কলোনী, আগ্রাবাদ ব্যাংক কলোনীসহ আগ্রাবাদ এলাকায় প্লট টু প্লট কোন ধরনের ভূমি ব্যবহার করা যাবে এবং কিভাবে এলাকাটি পরিকল্পিত করা যাবে সেবিষয়ে ডিটেইল একটি গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। একইভাবে বাকলিয়ায় কর্ণফুলী নদীর ধারে বিশাল একটি এলাকা আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছি। এই এলাকার জোন ভিত্তিক ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা রেখেছি। এখানেও কোন ধরনের উন্নয়ন করা যাবে এবং কি করা যাবে না সেধরনের গাইড লাইন রয়েছে। সর্বশেষ কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোনসহ অনেক শিল্প ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। তাই এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পের সমন্বয় করে একটি ডিটেইল গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। এই গাইড লাইনের ভিত্তিতে ওই এলাকার উন্নয়ন নিয়ন্ত্রন করা হবে।

অন্য এলাকায় কি অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান হবে?

এই তিনটি অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যানের বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চাইলে সেই এলাকায়ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান করা সম্ভব। এবিষয়ে জানতে চাইলে আবু ঈসা আনসারী বলেন,‘ আমরা মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় তিনটি অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান করলাম। পরবর্তীতে আরো করার প্রয়োজন হলে কিংবা নগরের কোনো এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা করা হলে সেই এলাকার জন্য অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান হতে পারে।

নগরে থাকবে না কৃষিজমি

মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নগরীতে কোনো কৃষিজমি থাকবে না। এবিষয়ে জানতে চাইলে আবু ঈসা আনসারী বলেন, বর্তমান সরকারের নগর নিয়ে যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনায় নগরে কোনো কৃষি জমি থাকতে পারবে না। আবার নগরীর বাইরের কৃষিজমি ভরাট করতেও বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই হিসেবে নগরীতে এখন বিক্ষিপ্তভাবে যেসব কৃষিজমি রয়েছে সেগুলোর জন্য কিছু গাইড লাইন রয়েছে। পিউরলি কৃষিজমি থাকলে শুধুমাত্র সেই ভূমিটি কৃষির জন্য বরাদ্দ রেখে অন্যান্য ভূমি মাস্টারপ্ল্যানের গাইড লাইন অনুযায়ী ব্যবহৃত হবে।

পাহাড়ে নিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ

পাহাড় মানেই ব্যবহার করা যাবে না তা নয়। এবারের মাস্টারপ্ল্যানে পাহাড় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা করা যাবে। অর্থাৎ পাহাড়ের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে। তবে সেই নির্মাণ হতে হবে পুরোপুরি সিডিএ’র গাইড লাইন অনুযায়ী। এবিষয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক আবু ঈসা আনসারী বলেন, এই নগরের নর্দান হিলকে (উত্তরের পাহাড়সমূহ) সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর সিআরবি, বাটালি হিল, টাইগারপাস হিল, ম্যানোলা হিলসহ নগরীর ভেতরের উল্লেখযোগ্য হিলগুলোকে সংরক্ষিত জোন হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য হিলগুলো নিয়ে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পাহাড়ের ঢাল অনুপাতে ব্যবহারের জন্য একটি গাইড লাইন করা হয়েছে। এই গাইড লাইনে পাহাড়ে স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে।

সংরক্ষিত থাকবে জলাশয়

এই নগরীর বিদ্যমান সকল পুকুর ও জলাশয়গুলো সংরক্ষণ করা থাকবে। আগামীতে কেউ এসব পুকুর বা জলাশয় ভরাট করতে পারবে না। বড় আকারের পুকুর ও জলাশয়গুলোকে আরবান পর্যটন স্পট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এবিষয়ে আবু ঈসা আনসারী বলেন, নগরী ও নগরীর বাইরের সকল পুকুর ও জলাশয়ের ডাটাবেইজ এখন আমাদের হাতে রয়েছে। এসব পুকুরের বিএস দাগ নম্বরসহ মার্ক করা আছে। তাই কেউ চাইলেই এগুলো ভরাট করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে আমাদের কাছে আসতে পারবে না। এসব পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষিত থাকবে।

মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা থাকবে

এবারের মাস্টারপ্ল্যানের উল্লেখযোগ্য দিক হলো সরকারের উন্নয়ন ও সেবা সংস্থাগুলো কে কি কাজ করবে এর একটি গাইড লাইন রয়েছে। এবিষয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র উপ প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী বলেন, এবার মাস্টারপ্ল্যানের গাইড লাইনের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আমরা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে জোর দিয়েছি। অর্থাৎ মাস্টারপ্ল্যানের কোন কোন কাজ কোন সংস্থা বাস্তবায়ন করবে তা উল্লেখ থাকবে। সিডিএ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়ন করবে নগরীর সকল উন্নয়ন ও সেবা সংস্থা।

তিনি আরো বলেন, এজন্য আমরা একটি আরবান কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা রেখেছি এই মাস্টারপ্ল্যানে। অর্থাৎ এই আরবান কোঅর্ডিনেশন কমিটির মাধ্যমে এক সংস্থার প্রকল্প অপর সংস্থার প্রতিনিধিরা জানতে পারবে এবং এই প্রকল্পকে সাপোর্ট করার জন্য অন্যান্য সংস্থাগুলো বাকি কাজ করবে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল ছিল একটি মেগা প্রকল্প হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পকে ফলপ্রসু করতে সড়ক ও জনপথ এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো বাকি উন্নয়ন প্রকল্প নিতে পারতো। তাহলে তা আরো বেশি ফলপ্রসু হতো।

সমন্বিত উন্নয়ন প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে চাই। মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়নও সকল সংস্থাগুলোকে নিয়ে করতে চাই। এছাড়া সংসদীয় আসনগুলোর এমপিদের নিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মনিটরিং সেলও গঠন করা হবে।

৭ উপজেলা সদরে হচ্ছে টাউনশিপ

নগরের জনসংখ্যাকে বিকেন্দ্রীকরনে লক্ষ্যে পাশ্ববর্তী উপজেলা সদরে টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে। এর আওতায় সীতাকুন্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারি, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারায় টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে। এবিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরের উপর চাপ কমাতে এবং বিকেন্দ্রীকরন করতে আমরা নগরের পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে টাউনশিপ গড়ে তোলতে চাই। একইসাথে এসব কেন্দ্রগুলোর সাথে নগরীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস কিংবা ওয়াটার সার্ভিস চালু করার প্রস্তাবনা রয়েছে।