জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিনটি নিজের নামে করে নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান হোসেন জয়। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামকে চালকের আসনে বসিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রানের পাহাড়ে চড়ার পর খুলনার বোলারদের দৃঢ়তায় বড় ব্যবধানে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছে বরিশাল।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৩৪০ রানে অলআউট হয়েছে রংপুর। আগের দিনের ৬ উইকেটে ২২৯ রান থেকে দলের ইনিংস টেনে নেন চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আলাউদ্দিন বাবু। ফার্স্ট ক্লাব ক্রিকেটে আগের সাত ইনিংসে কখনো চল্লিশের কোঠা ছুঁতে না পারা রিজওয়ান ২৪২ মিনিট ক্রিজে থেকে খেলেন দারুণ এক ৭৫ রানের ইনিংস। শেষ দিকে স্বাধীন ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়ে দলকে ৩৪০ পর্যন্ত নিয়ে যান আবু হাশিম (২৭*)।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ধাক্কা খায় ঢাকা। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে কিপারের ক্যাচ হন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (০)। আম্পায়ার আউটের ইশারা করার পর বেশ কিছুক্ষণ উইকেটে দাঁড়িয়ে থেকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এই ওপেনার।
এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি ঢাকা। বল হাতে ২১ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজওয়ান নেন দুই উইকেট। অভিজ্ঞ মার্শাল আইয়ুব থিতু হলেও আবু হাশিমের বলে ৩৪ রানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ঢাকাকে দিনের শেষ ভাগে উদ্ধার করেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। অবিচ্ছিন্ন ৪৬ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা। দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১২০ রান।
চালকের আসনে চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রান সংগ্রহ করেছে রাজশাহী। আগের দিনের ২৯০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা দলটিকে ৩৬০ পার করান নিহাদউজ্জামান। চট্টগ্রামের পক্ষে হাসান মুরাদ শিকার করেন ৪টি উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার জয় ও সাদিকুর। প্রথম ১০ ওভারে সতর্ক থেকে রান তোলার গতি বাড়ান তারা দুজন। ১০১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন জয়; পরের ফিফটি করতে খেলেন মোটে ৬৬ বল। এস এম মেহেরবের বল থেকে দুই রান নিয়ে ফার্স্ট ক্লাসে নিজের সপ্তম সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। একই সঙ্গে এই ফরম্যাটে ৩ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন জয়। দিন শেষে ১৭০ বলে ১০২ এবং সাদিকুর ১১৮ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত আছেন। বিনা উইকেটে ১৯০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফলোঅনে বরিশাল : বরাবরের মতো এবারও প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কায় বরিশাল। আগের দিন ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহের পথে এ দিন আফিফ হোসেন থামেন ৫০ রানে। শেষ জুটিতে সফর আলী (২৯*) ও আব্দুল হালিম (২১) দারুণ ব্যাটিং করে ৪৬ রান যোগ করলে খুলনা থামে ৪২৬ রানে। পেসার রুয়েল মিয়া হালিমকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের অষ্টম পাঁচ উইকেট (৫/৮০)।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় বরিশাল। দলের প্রায় অর্ধেক রানই আসে ওপেনার ইফতিখার হোসেন ইফতির (৪৪) ব্যাট থেকে। বরিশালের আট ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রানও ছুঁতে পারেননি, যার মধ্যে পাঁচজনই ফেরেন শূন্য রানে।
ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও চরম বিপর্যয়ে পড়েছে বরিশাল। ইনিংস পরাজয় এড়াতে দলটির এখনো ২৮৯ রান প্রয়োজন, হাতে আছে কেবল ৮ উইকেট।
লিডের সুবাস পাচ্ছে সিলেট : সিলেটে ময়মনসিংহের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩১১ রানে। আগের দিন ৭ উইকেটে ২৭৩ রান করা দলটির পক্ষে আবু হায়দার ৫৮ রান করে আউট হন। সিলেটের তোফায়েল আহমেদ, নাঈম আহমেদ ও নাবিল সামাদ প্রত্যেকে নেন ৩টি করে উইকেট।
জবাবে উদ্বোধনী জুটিতে আগ্রাসী শুরু করে সিলেট। জাকির হাসান ও মুবিন আহমেদ দিশানের জুটি ভাঙে রিজান হোসেনের বলে দিশান (১৯) আউট হলে। অভিজ্ঞ জাকির হাসান ও সৈকত আলী দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৯ রান। সৈকত ৪১ রানে ফিরলেও ফিফটি তুলে নেন টেস্ট দল থেকে বাদপড়া অধিনায়ক জাকির (৬০)।
এক ওভারে জাকির ও অমিত হাসানকে (১৯) ফিরিয়ে জোড়া ধাক্কা দেন আসাদুল্লাহ গালিব। তবে সেই ধাক্কা সামলে আসাদুল্লাহ হিল গালিবের তিন ছক্কার চোখ জুড়ানো ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান তুলে দিন শেষ করেছে সিলেট।