১৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার ২৪০০ টাকায় বিক্রি

এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজারের বড় ধাক্কা লাগল দেশীয় বাজারে। সরকারিভাবে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দেওয়া আদেশটি গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে বাজারে গতকাল ১২ কেজির এলপিজি বিক্রি হয়েছে প্রতি বোতল ২ হাজার ৪০০ টাকায়।

গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরেই বাজারে এলপিজির সংকট ছিল। এর মধ্যে এলপিজি অপারেটররা পৃথকভাবে এলপিজির প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া ৩০০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানায়। গত মাসে যা ছিল ১৬০ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দেশেও বাড়ানো হবে আমদানিকারকরা এটি আগেভাগে বুঝতে পেরেই এলপিজি মজুদ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলপিজির বাজার অস্থির হওয়ার পর জ্বালানিমন্ত্রী দুই দফা এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেন। এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও মন্ত্রীর বৈঠকের পর পৃথক বিবৃতি দিয়ে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করার জন্য ডিলারদের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই গ্রাহকরা স্বস্তি পাননি। গতকালও বাজারে এলপিজি বিক্রি হয়েছে প্রতি ১২ কেজির বোতল ২ হাজার ৪০০ টাকায়।

সূত্র বলছে, বাজারের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাত্র চারটি কোম্পানির হাতে। প্রতি মাসে যদি ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয় এর মধ্যে ৯১ হাজার টন এলপিজি আমদানি করে মাত্র ৪টি কোম্পানি। অন্যদিকে সবাই মিলে বাকি ২৯ হাজার টন এলপিজি আমদানি করে। সঙ্গত কারণে বড় একটি বা দুটি কোম্পানি যদি সিন্ডিকেট করে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রাখে তাহলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট শুরু হতে পারে। এবার এই সংকটের সময়ও বড় বড় কোম্পানিগুলোর কেউ কেউ তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ রেখেছে। ফলে বাজারের সংকটকে পুঁজি করে ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়িয়েছে।

এলপিজির সঙ্গে গতকাল অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। এখন থেকে ৭৩ টাকা ৯ পয়সার প্রতি লিটার অটোগ্যাস কিনতে হবে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সায়।

গত তিন মাস বিইআরসি যে আদেশ দিয়েছে সেই দাম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে অক্টোবরে এলপিজির কাঁচামাল প্রোপেন এবং বিউটেনের দাম বেড়েছে সেপ্টেম্বরের তুলনায় টনপ্রতি ৬৫ ডলার। একইভাবে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে ৯০ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম 

 হিসাব মার্কিন ডলারে/টন সময়      প্রোপেন  বিউটেন  প্রোপেন-বিউটেনের গড় দাম           জাহাজ ভাড়া প্রিমিয়াম

অক্টোবর

            ৬৮০     ৭৩০     ৭১২.৫০            ২৫০

সেপ্টেম্বর

            ৬২৫     ৬৬০     ৬৪৭.৭৫            ১৬০

আগস্ট

            ৬২০     ৬৪০     ৬৩৩.০০            ১৮০

সৌদি অ্যারামকোর ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী অক্টোবরে টনপ্রতি প্রোপেনের দাম ৬৮০ ডলার, বিউটেনের দাম ৭৩০ ডলার এবং প্রোপেন ও বিউটেনের গড় দাম ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অক্টোবরের আমদানির জন্য প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া টনপ্রতি ২৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের দাম টনপ্রতি ৬২৫ ডলার, বিউটেনের দাম ৬৬০ ডলার এবং এদের গড় দাম ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়। ওই মাসের জন্য প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া টনপ্রতি ১৬০ ডলার নির্ধারিত ছিল।

এর আগে গত আগস্টে টনপ্রতি প্রোপেনের দাম ৬২০ ডলার, বিউটেনের দাম ৬৪০ ডলার এবং এদের গড় দাম ৬৩৩ ডলার নির্ধারিত ছিল। একই সঙ্গে আগস্টে জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম ছিল ১৮০ ডলার।