রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মরত সাংবাদিকরা। এসময় স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। 
‎
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে চোখে কালো কাপড় বেধে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা।

‎এ সময় তাদের হাতে 'প্রক্টর স্যার অসহায়', লেজ গুটিয়ে পুলিশ পালায়, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র চালায়', 'সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গণতন্ত্রের ওপর হামলা', 'অন্যায় দেখলে সাংবাদিক বলবে', 'রক্ত ঝরলেও কলম চলবে', 'হাবিপ্রবি, ঢাবি, রাবি, এরপরে কোনটা?', 'সাংবাদিকরা ক্যাম্পাসের অ্যাসিস্ট, ভুলে গেলি নব্য ফ্যাসিস্ট!' ইত্যাদি প্লাকার্ড দেখা যায়। 


‎
‎মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাকিব আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ ক্যাম্পাসের তিন সংগঠনের কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎এর আগে সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।  
‎
‎বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা, অনিয়ম ও সংশ্লিষ্ট বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও পেশাগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।

‎উল্লেখ্য, বরিবার (৪ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে জড়ো হলে এসময় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান কোরবান ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। তাদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।