ক্রমবর্ধনশীল জনসংখ্যার চাপ, আবাসন সংকট আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ—এই তিন চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই চট্টগ্রামে পালিত হলো বিশ্ব বসতি দিবস। চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও নগরবাসীর সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) উদ্যোগে পালিত বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬–এর আলোচনা সভায় এই তাগিদ দেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে সিডিএর প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে ও বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র্যালি শেষে সিডিএ মিলনায়তনে নগর আবাসন পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণ এবং টেকসই নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মাদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত এলাকাগুলোকে পর্যায়ক্রমে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগর পরিবেশে রূপান্তর করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এ ছাড়া প্রাকৃতিক ভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ এবং নগরের সব এলাকায় সমতার ভিত্তিতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এর শুরুতে সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনছারী বিশেষ উপস্থাপনা দেন। এতে চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধনশীল জনসংখ্যার চাপ, আবাসন ঘাটতি, সাশ্রয়ী আবাসনের প্রয়োজনীয়তা এবং চলমান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
অন্যান্য বক্তারা পাহাড়, লেক ও জলাধার রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সুশৃঙ্খল নগর সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, “একটি শহর তখনই প্রকৃত অর্থে বাসযোগ্য হয়, যখন সেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আবাসন ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চউকের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে সিডিএর বোর্ডের সদস্য প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হানিফ এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা বক্তব্য দেন।