‘টাইটান অ্যারাম’ হলো, দানবীয় এবং দুর্গন্ধময় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম, ‘অ্যামোরফোফালাস টাইটানিয়াম’। এই ফুলটি থেকে পচা লাশের মতো দুর্গন্ধ ছড়ায়। রং হয় কালচে-লাল মাংসের মতো। মানুষের কাছে তা অসহ্য হলেও, এই গন্ধ পচনপ্রেমী পোকা ও মাছিকে আকর্ষণ করে। প্রায় ২ মিটার বা এর চেয়ে লম্বা ফুলটি আসলে একক ফুল নয়, বরং হাজার হাজার ছোট ফুলের গুচ্ছ। ফোটার সময় নিজে তাপ উৎপন্ন করে, যা দুর্গন্ধকে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে দেয়। গন্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো, পচা মাংস খেকো গোবরে পোকা এবং মাছিকে আকৃষ্ট করা, যা উদ্ভিদের বংশবিস্তার বা পরাগায়নে সাহায্য করে। এটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের গভীর রেইনফরেস্টে জন্মায়। স্থানীয়ভাবে যাকে বলা হয় ‘বুঙ্গা বাংকাই’, যার অর্থ ‘শবদেহ’। ফুলটি প্রস্ফুটিত হওয়ার সময় পরাগায়নের জন্য বিশেষ রাসায়নিক নির্গত করে। ফলে পচা মাংসের মতো দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। ফুলটি ফোটার নির্দিষ্ট সময় নেই। তবে ১০ বছরে এই ফুল ফোটে ২ দিনের জন্য। এরপর এটি নুয়ে পড়ে এবং মারা যায়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফুলের তীব্র পচা গন্ধ আশপাশের এলাকায় ছড়ায়। বিপন্ন প্রজাতির গাছের তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছে এটি।
প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার কারণে বুনো পরিবেশে গাছ এবং ফুলটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বোটানিক্যাল গার্ডেনে কৃত্রিমভাবে গাছটি চাষ করা হচ্ছে। ফুলটি যখন ফোটে, তখন হাজার হাজার দর্শনার্থী তীব্র পচা গন্ধ ও বিশালাকার রূপ দেখতে ভিড় জমান।