কেন ভেঙে গেল প্রেম ভালোবাসার সংসার

পাঁচ বছরের সম্পর্ক আর চার বছরের বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন অবশেষে বিচ্ছেদে রূপ নিল। সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেমের বিচ্ছেদের খবর নিজেরাই প্রকাশ করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। এরপর তোলপাড় শোবিজ অঙ্গন। কীভাবে এবং কেন তাদের এই সাজানো সংসার ভেঙে গেল? তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। শোবিজ অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে এখন এই দম্পতির বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ।

তাদের এই সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৭ সালে। প্রীতম হাসানের তুমুল জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওর সেটে প্রথম পরিচয় হয় শেহতাজের সঙ্গে। কাজের সূত্রে তৈরি হওয়া সেই পরিচয় দ্রুতই রূপ নেয় প্রণয়ে। দীর্ঘ প্রায় চার বছর গোপন ও প্রকাশ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখার পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। শ্রীমঙ্গলের একটি অভিজাত হোটেলে দুই পরিবারের সদস্য ও বিনোদন জগতের ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাদের সেই বিয়ে। বিয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা তাদের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ভক্তদের কাছে দারুণ প্রশংসিত হতো। এমনকি চলতি বছরের শুরুতেও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দুজনকে একসঙ্গে হাসিমুখে দেখা গেছে।

তবে বাইরের এই সুসংবাদের অন্তরালে বেশ কিছুদিন ধরেই জমছিল অসন্তোষের কালো মেঘ। শোবিজ সূত্রের খবর, সম্পর্কের এই চূড়ান্ত অবনতির মূলে রয়েছে প্রীতমের মাত্রাতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা ও সংসারকে সময় না দেওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে লাইভ কনসার্ট, নতুন গানের প্রডিউসিং এবং অভিনয় নিয়ে প্রীতম ব্যস্ত থেকেছেন। প্রীতমের ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা যায়, কাজের এই ব্যস্ততার কারণে তিনি পরিবার ও শেহতাজকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছিলেন না। স্বামীর এই ক্রমাগত ব্যস্ততা ও অবহেলাকে কেন্দ্র করে শেহতাজের মনে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে তার আচরণেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

অন্যদিকে, শেহতাজের ক্যারিয়ার সংক্রান্ত নানা আক্ষেপও এই টানাপড়েনকে আরও উসকে দেয়। ক্যারিয়ারের সুসময়ে থাকা অবস্থায় বিয়ের পরই নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন শেহতাজ। অনুরাগীদের নিয়মিত কাজের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি পর্দায় ফিরতে পারেননি। শোবিজ ঘনিষ্ঠদের মতে, শেহতাজের কাজ না করার পেছনে প্রীতম ও তার পরিবারের পরোক্ষ অমত বা আপত্তি ছিল, যা শেহতাজের মধ্যে তীব্র হতাশার জন্ম দেয়। একদিকে নিজের থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার, অন্যদিকে স্বামীর অবহেলা, সব মিলিয়ে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়ার বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়।

কয়েক মাসের অভ্যন্তরীণ মানসিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই তাদের দাম্পত্য জীবনের চূড়ান্ত ইতি ঘটে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরপর গত রবিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে আলাদা বিবৃতির মাধ্যমে প্রীতম ও শেহতাজ তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। বিবৃতিতে তারা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পরিবারের সমর্থনের কথা বললেও, মূলত কর্মব্যস্ততা, অবহেলা ও মানসিকভাবে দূরে সরে যাওয়াই এই চর্চিত শোবিজ দম্পতির ভালোবাসার সংসারকে চিরতরে ভেঙে দিল।