বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়, যে কোনো পরিস্থিতিতে সংকট সমাধানে পাশে থাকার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি ডা. শফিকুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। তারা একটি গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান। সরকারের যেসব উদ্যোগ জনস্বার্থে ও দেশের কল্যাণে হবে, সেসব কাজে তারা সহযোগিতা করবেন। আর যেসব সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী হবে, সেসব বিষয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরবেন, সমালোচনা করবেন এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিটিএমএর নেতারা তাদের খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেন জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি টেক্সটাইল খাতের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিতকরণ, দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সংরক্ষণ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং অবৈধ আমদানি প্রতিরোধের বিষয়গুলো উঠে আসে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসইভাবে শক্তিশালী করা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ খাতের স্বার্থে বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বৈঠক শেষে বিটিএমএর নেতারা ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াতের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, বৈঠকে টেক্সটাইল খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিনিয়োগ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে এবং দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
আগামী ১৮ নভেম্বর বস্ত্র ও পোশাকসংশ্লিষ্ট বাটেক্সপো মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধান অতিথি হওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে।
তিনি বলেন, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। এবার এ রীতির ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
তবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজে কোনো অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হওয়ার জন্য দাবি বা অনুরোধ করেননি বলেও জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাতকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ করা উচিত নয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সব পক্ষের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
বিটিএমএর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও আম্বার কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পূর্বাণী ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার, পরিচালক ও জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহিদ আলম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হোসেন ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস লিমিটেডের (ইউনিট-২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন মেহমুদ, পরিচালক ও সায়হাম কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক ও মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, এনডিসি, পিএসসি (অব.), জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জিয়াউল হাসান চৌধুরী এবং প্রেসিডেন্টের পিএস আরিফ রায়হান রবিন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং মাইশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়াসহ অনেকে।