'জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো': বিক্ষোভে রাহুলের হুঁশিয়ারি

ভোটার তালিকায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের ৩০০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। পরে ছাড়া পেয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে নির্বাচন কমিশনের সামনের রাস্তায় অবস্থান ধর্মঘট থেকে সিইসি-কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’, অর্থাৎ, জ্ঞানেশ তোমার খেলা শেষ। খবর বিবিসি’র। 

মূল স্লোগানটি এর আগে মুম্বাইতে এক বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় তুলেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপক। সম্প্রতি ভারতজুড়ে ছাত্র ও যুব আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই বিশেষ স্লোগানটি ব্যপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই একই স্লোগানে সুর মিলিয়ে সিইসি ও সরকারপক্ষকে কড়া বার্তা দেন রাহুল।

দিল্লি পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে রাস্তার অবস্থান কর্মসূচি থেকে রাহুল গান্ধী আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা স্পষ্টত দেশদ্রোহিতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান কিংবা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার—এই অন্যায়ের হাত থেকে কেউই ছাড় পাবে না।’
 
‘দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী ৩০০ জনেরও বেশি বিরোধী সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। অথচ কেন তিনি আমাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন? কেন আমাদের পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো ও পথ আটকানো হচ্ছে,’ প্রশ্ন রেখে বলেন তিনি। 

ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি নিয়ে ভারতের সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের এমপিরা। এই মিছিলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাড্রা, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জিসহ বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিছিলটি নীতি আয়োগ কার্যালয়ের কাছে পার্লামেন্ট স্ট্রিটে পৌঁছালে দিল্লি পুলিশ জোরপূর্বক তাদের পথ রোধ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংসদ দসদস্যদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ জোর করে রাহুল গান্ধীসহ অন্য এমপিদের আটক করে গাড়িতে তোলে। তবে আটকের কিছুক্ষণ পর পুলিশ সবাইকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। মুক্তি পেয়েই তারা ফের পদযাত্রা শুরু করেন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই বিরোধীদের এই মিছিল বা পদযাত্রার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। যে কারণে তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তবে রাজপথে বিরোধীদের এই অবস্থান ও টানা বিক্ষোভে দিল্লির রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে পুরো ভারতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।