ভয়াবহ আগুনে পুড়ল মুম্বাই ফিল্ম সিটি

ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে শুটিং সেটে ভয়াবহ আগুন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে প্রাইম ফোকাস স্টুডিওর পেছনে একটি অস্থায়ী কাঠামোয় আগুন লাগে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই। তবে আগুন ঘিরে শুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুম্বই ফায়ার ব্রিগেড-সহ অন্যান্য জরুরি পরিষেবা। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিট নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অস্থায়ী কাঠামোর বৈদ্যুতিক তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কেবল, দরজা, কাঠের পাটাতন, এসি ইউনিট, বাঁশ ও প্লাস্টিকের সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম এবং শুটিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি।  

এদিকে, আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, প্রাইম ফোকাস স্টুডিওতেই কালার্সের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘পতি পত্নী অউর পাঙ্গা সিজন ২’-এর সেটে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় সেটে বহু কর্মী ও শিল্পী উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। এআইসিডব্লিউএ-র সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত অভিযোগ করেছেন, সেটে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। তার দাবি, ঘটনার দ্রুত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি, গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল, প্রযোজক ও প্রোডাকশন হাউসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ফিল্ম সিটির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।

সুরেশ গুপ্তর কথায়, ‘এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি অপরাধমূলক গাফিলতি। প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মী ও শিল্পী এই সেটগুলিতে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেন। আগুন লাগলে ক্ষতির মুখে পড়েন দরিদ্র কর্মীরাই, লাভবান হওয়া চ্যানেল বা প্রযোজকেরা নন। এভাবে চলতে পারে না। শীর্ষস্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’

ঘটনা নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকেও চিঠি দিয়েছেন এআইসিডব্লিউএ সভাপতি। সংগঠনের দাবি, ফিল্ম সিটিতে প্রতিটি শুটিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফায়ার অডিট, প্রশিক্ষিত অগ্নিনিরাপত্তা কর্মী এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি, যে প্রযোজনা সংস্থা অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মানবে না, তাদের শুটিংয়ের লাইসেন্স বাতিল করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা পরিষ্কার হবে।