শিক্ষামন্ত্রী জানালেন

আগামী বছরের শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে খেলাসহ চার বিষয়

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষা কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দময় ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো এবং এমন এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা আগামী দিনে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নেতৃত্ব দেবে। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ৫৩তম আঞ্চলিক গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের মেধা বিকশিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় জয় ও পরাজয় দুটিই আসবে, পরাজয়কে সহজভাবে গ্রহণ করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সফল হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তোমাদের পাশে রয়েছেন। তোমরা খেলাধুলার পাশাপাশি ভালোভাবে লেখাপড়া করবে। ভালো লেখাপড়া করে নিজকে তৈরি করে আগামী দিনের সম্ভাবনাময়ের বাংলাদেশ গড়বে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু বইমুখী না রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থায় ক্রীড়াকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষা কার্যক্রমে ক্রীড়াকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’

মাহদী আমিন বলেন, দেশের প্রায় ৩০ হাজার স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবারের গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রাথমিক ধাপে অংশ নিয়েছে। দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি এই চারটি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দেবেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে।’