রবিনের সেঞ্চুরি লড়লেন আকবর

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডের শেষ দিনে কোনো ম্যাচেই ফল আসেনি। মিরপুরে আকবর আলীর দৃঢ়তায় হার এড়িয়েছে রংপুর বিভাগ। সিলেটে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগকে ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন। চট্টগ্রাম-রাজশাহী ম্যাচও শেষ হয়েছে নি®প্রাণ ড্রয়ে। তিন ম্যাচেই শেষ দিনে ছিল ব্যাটারদের দাপট।

ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিনে ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় রংপুর। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড পাওয়া দলটি দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন আকবর। ১৩২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপদ থেকে বের করে আনেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়।

এনসিএল শুরুর আগে আকবরকে নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল। সর্বশেষ বিসিবির কোনো দলে জায়গা না পাওয়ায় তাকে নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। প্রথম ইনিংসে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দলের প্রয়োজনের সময় নিজের সামর্থ্য দেখান রংপুরের অধিনায়ক। কঠিন সময়ে ব্যাটিং করাটা যে তার কাছে আলাদা এক চ্যালেঞ্জ, সেটিও জানিয়েছেন আকবর। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আসলে এটা আমার জন্য বলা কঠিন যে, কোন সময়ে ভালো খেলি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি এ ধরনের সময় ও চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করি। আর ভালো লাগছে যে, দলকে ওই ধরনের একটা পরিস্থিতি থেকে বের হতে পেরেছি।’

নিজেকে নিয়ে চলা আলোচনা নিয়েও কথা বলেন আকবর। নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয় নিয়ে না ভেবে মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ দিতে চান তিনি, ‘আলোচনা হয়েছে আমিও জানি। কিন্তু সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমার নিয়ন্ত্রণে যেটা ছিল, আমি প্রথম ইনিংসে ভালো শুরু পেয়েছিলাম, কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারিনি। এই ইনিংসে আমার চেষ্টা ছিল ভালো শুরু পেলে উইকেটে থাকব।’

অন্যদিকে সিলেটে সেঞ্চুরি করে দিনের অন্যতম আলোচিত পারফরমার হয়েছেন ময়মনসিংহের ওপেনার রবিন। তার সেঞ্চুরি ও আব্দুল মজিদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে ময়মনসিংহ। শেষ পর্যন্ত সিলেটের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহ ৩১১ রান করার পর সিলেট ৩২৭ রানে অলআউট হয়। এতে ১৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। সেই লিড পেছনে ফেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় ময়মনসিংহ। রবিন ও খালিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৪০ রান।

খালিদ ৫৭ রান করে ফিরে গেলেও রবিন নিজের ইনিংস এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে ১১ চারে ১০০ রান করেন তিনি। নাঈম আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে থামে তার ইনিংস। এরপর রাকিবুল হাসান দ্রুত ফিরে গেলেও আরিফুল ইসলাম ও আব্দুল মজিদ মিলে দলকে এগিয়ে নেন। আরিফুল করেন ৭২, মজিদের ব্যাট থেকে আসে ৮৭ রান। শেষ দিকে আল আমিন জুনিয়রের ৪১ রানে ৬ উইকেটে ৩৭২ রান তোলে ময়মনসিংহ। সিলেটের হয়ে নাঈম আহমেদ নেন ৫ উইকেট।

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত ফল আসেনি। প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর ৩৬৪ রানের জবাবে চট্টগ্রাম করে ৩৯৩ রান। মাহমুদুল হাসান জয় ১০৫ এবং সাদিকুর রহমান ১১৫ রান করে চট্টগ্রামকে এগিয়ে দেন। ১৭ রানের লিড নিয়ে শেষ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। সাব্বির রহমানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ২২৪ রান তোলে তারা। নাঈম আহমেদ করেন ৪৭ এবং প্রীতম কুমার ৩৭ রান। শেষ পর্যন্ত দুই দল ড্র মেনে নেয়। চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ ও আশরাফুল হাসান তিনটি করে উইকেট নেন।