এয়ারবাসের সাথে ঢাকায় চুক্তি আজ, বিশাল হচ্ছে বিমানের বহর

দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই বুধবার (৭ অক্টোবর) এয়ারবাসের সাথে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হচ্ছে ঢাকায়। স্থানীয় একটি হোটেলে এই চুক্তি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও মডেলের। এগুলো যুক্ত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগোবে। বর্তমানে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৯টি। নতুন করে বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪টিতে। 

উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে জনবলের চাহিদাও। বাড়তি উড়োজাহাজ পরিচালনা ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য প্রায় এক হাজার ক্রুর প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে বিমানের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন উড়োজাহাজগুলো কোন কোন রুটে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিমান সূত্র জানায়, রাজধানী র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের উৎসব হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমায়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। 

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বাংলাদেশ সরকার, বিমান ও এয়ারবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও মডেলের এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনা হবে। এ৩৫০-৯০০ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। আর এ৩২১নিও দিয়ে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুট পরিচালনা করা যাবে। নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হলে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক গন্তব্য বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক রুটেও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও সেগুলো দিয়ে কোন কোন নতুন রুট চালু করা হবে, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। এ৩৫০-৯০০ দিয়ে দূরপাল্লার রুটে বিমানের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ৩২১নিও দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করা হতে পারে। যেসব রুটে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে এ৩২১নিও ব্যবহার করে পরিচালন ব্যয় ও আসন সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ থাকবে। তবে বাজার বিশ্লেষণ, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা পর্যালোচনার পর রুট চূড়ান্ত করা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েন, 'বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে। আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। অক্টোবরে চূক্তি হবে।' উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে ১০টি এয়ারবাস কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তি সইয়ের পর উড়োজাহাজগুলোর মূল্য, অর্থায়ন কাঠামো, সরবরাহের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভর বহরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও এয়ারবাস যুক্ত হচ্ছে। বিমানের বহরে অতীতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির জেট বহরের বড় অংশ বোয়িংয়ের তৈরি।

এদিকে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা শুধু এয়ারবাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর আগে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের বোয়িং রয়েছে। ফলে পরিকল্পিত নতুন বোয়িংয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে। এর সঙ্গে ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনায় মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ থাকবে। এর মধ্যে ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি— দুই ধরনের উড়োজাহাজই থাকছে। বিদ্যমান বহরের সঙ্গে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বহর ৫৪টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে যাবে। এখন পর্যন্ত বহরে যুক্ত আছে ১৯টি বিমান।

নতুন উড়োজাহাজগুলো হাতে পেতে এখনও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। সেই সময় পর্যন্ত সক্ষমতার ঘাটতি সামাল দিতে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব বহর বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিমান হাতে না পাওয়া পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে ফ্লাইট সক্ষমতা ধরে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।