চুয়েটে ব্যাংক ঘেরাওয়ের দেড় ঘণ্টার পর বেতন পরিশোধ

ব্যাংক ঘেরাওয়ের দেড় ঘণ্টার পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আটকে থাকা বেতন-ভাতা অবশেষে পরিশোধ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই বেতন-ভাতা ছাড় করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এর আগে নতুন উপাচার্যের নির্দেশে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার প্রতিবাদে সকাল ১১টায় চুয়েট ক্যাম্পাসে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের শাখা ঘেরাও করেন কর্মচারীরা। ঘেরাওয়ের দেড় ঘণ্টা পর বেতন পরিশোধের বার্তা পৌঁছালে কর্মচারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরেই বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন ভিসি অন্যায্যভাবে বেতন আটকে দেন। বাধ্য হয়ে আমরা ব্যাংক ঘেরাও করি। দাবির মুখে চুয়েটের চিরাচরিত নিয়মেই আমাদের বেতন দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, ‘কর্মচারীদের ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দশনা পেয়েই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবার বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে শুরু থেকেই এই নিয়োগের বিরোধিতা করে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আন্দোলনের মুখে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারলেও ই-মেইলের মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধের নির্দেশনা দেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে পাঠানো এক ই-মেইলে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এই নির্দেশ দেন।

পরবর্তী সময়ে ৫ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক উপাচার্যকে ফিরতি ই-মেইলে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরসংবলিত বেতনের বিল ব্যাংকে পৌঁছেছে। তবে এর জবাবে উপাচার্য আবারও ই-মেইল পাঠিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার পূর্বানুমোদন ছাড়া পাঠানো বেতনের বিল অননুমোদিত ও বেআইনি।