বেনাপোল চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বেনাপোল চেকপোস্টে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিন বছরের মেয়াদে ‘বেনাপোল চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সংগঠন’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সম্পৃক্ত রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত তার গ্রুপের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে চেকপোস্টে উপস্থিত হন। পরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে পাল্টা চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের একটি কমিটি তৈরি করেন। এ ঘটনায় অন্যান্য ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চেকপোস্ট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নতুন যে সংগঠনটি করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
সংগঠনের সভাপতি আজিজুল বলেন, প্রতিটি সংগঠনের একটি গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি থাকে। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এসব কিছুই মানা হয়নি। যারা এ কাজটি করেছেন, তারা এলাকায় বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত ও দলবাজ নেতা হিসেবে পরিচিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কমিটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে উপদেষ্টা বা নীতিনির্ধারকেরা বর্তমান দায়িত্বে থাকা নেতাদের ডেকে অভিযোগ জানাতে পারতেন। প্রয়োজনে বৈঠকে না এলে তখন এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেত। কিন্তু স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতা দেখিয়ে পাল্টা কমিটি দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সভাপতি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি কমিটি পরিবর্তন চান, বৃহত্তর স্বার্থে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করতে রাজি। তবে সেটি অবশ্যই নিয়মনীতি মেনে করতে হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনে দলবাজি ও প্রভাব বিস্তার মেনে নেওয়া হবে না।
কমিটির সহসভাপতি সাংবাদিক আনিসুর রহমান, আলী আশরাফ ও উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, কমিটিতে কোনো পরিবর্তন করতে হলে তা বৈধ প্রক্রিয়ায় করতে হবে। মনগড়া কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
কমিটির উপদেষ্টা সাদিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক এবং সেক্রেটারি আব্দুস ছাত্তার বলেন, তারা এই কমিটির উপদেষ্টা হলেও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে তাদের অসম্মান করা হয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে মতভেদ ও সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির ওপর মহলে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানান তারা।
কমিটির উপদেষ্টা বড় আঁচড়া গ্রামের কৃতী সন্তান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম এবং ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম চয়ন বলেন, তারাও ব্যবসায়ী সংগঠনের উপদেষ্টা। চেকপোস্টে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। এতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে।
চেকপোস্টের ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, চলমান কমিটির নেতাকর্মীরা চেকপোস্টে যাত্রী হয়রানি, ছিনতাই ও প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেন। কিন্তু মনগড়াভাবে নতুন কমিটি করা হলে চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তা আবারও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে সেটিই ব্যবসায়ীদের জন্য মঙ্গল হবে।
এদিকে, এ ধরনের হঠকারিতামূলক ও মনগড়া কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সংগঠনের শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।