ক্রীড়াবিদদের মধ্যে দেশপ্রেম আরও দৃঢ় হওয়া উচিত: আমিনুল হক

‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া ক্রীড়াবিদদের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও কমিটমেন্ট আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন। তারা শুধু নিজেদের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। দেশের মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তাদের কাছ থেকে সম্মান বয়ে আনার প্রত্যাশা করে।'

বুধবার এশিয়ান প্যারা গেমসগামী ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া সরঞ্জামাদি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কথাগুলো বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।  তিনি যোগ করেন, ‘প্যারা ক্রীড়াবিদদের সামাজিক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে সফল ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।’ এ সময় অন্যদের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব উল আলম, ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি) সভাপতি মো. নাসিরুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট সানোয়ার হোসেন, মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল, উপ-মহাসবিচ হেদায়েতুল আজিজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্যারা ক্রীড়াবিদদের নতুন সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ১২ ক্রীড়াবিদকে নিয়ে আশাবাদী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৭০ দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে ছয়টি ডিসিপ্লিনে পদকের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। 

প্যারা স্পোর্টসের উন্নয়নে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এর ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরুর আশা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘এশিয়ান প্যারা গেমসকে সামনে রেখে ১৫ আগস্ট থেকে প্রায় ৭০ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ক্রীড়াবিদরা। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বোচিয়া ও আর্চারি- বিভিন্ন ভেন্যুতে জাতীয় মানের কোচদের অধীনে হয়েছে এই প্রস্তুতি। প্রশিক্ষণের পুরো অর্থায়নে সরকার সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি কমিটির পক্ষ থেকেও স্পনসর সংগ্রহ করা হয়েছে।’

মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল বলেন, ‘চারটি ডিসিপ্লিনেই বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বোচিয়ায় একটি পদকের আশা করছি আমরা। অ্যাথলেটিক্সে শেখ সেলিম রেজার হাইজাম্পে ভালো করার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্সের হাইজাম্পে ব্রোঞ্জজয়ী ক্রীড়াবিদের সমান উচ্চতায় লাফিয়েছে সেলিম। তার সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকলে আমরা তার পদক জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদি। এ ছাড়া অ্যাথলেটিক্সের চৈতি রানী এবং আর্চারির ঝুমা- দুজনকেও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছি’। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এবার এশিয়ান প্যারা গেমস থেকে বাংলাদেশের ঘরে আসতে পারে কাক্সিক্ষত পদক।