চরিত্রের অন্যতম সৌন্দর্য শ্রদ্ধাবোধ

মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফোটে ওঠে তার আচরণে। একজন মানুষ কতটা বিনয়ী, কতটা সহনশীল এবং অন্যের প্রতি কতটা সম্মান প্রদর্শন করে, এসবই তার চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ করে। আর এই সৌন্দর্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শ্রদ্ধাবোধ।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুন্দর আচরণ ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। তাই শ্রদ্ধাবোধকে শুধু সামাজিক ভদ্রতা হিসেবে দেখলে বিষয়টির গভীরতা কমে যায়। বরং এটি একজন মানুষের নৈতিকতার পরিচয়।

পরিবার থেকেই শ্রদ্ধাবোধের প্রথম শিক্ষা শুরু হয়। বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের প্রতি স্নেহশীল হওয়া একটি সুন্দর পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ। একজন শিশুর সামনে পরিবারের বড়রা যদি পরস্পরকে সম্মান করেন, তাহলে সেই শিশুও স্বাভাবিকভাবেই সম্মান করতে শেখে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এই শিক্ষা শুধু একটি হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয়। বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের আচরণে প্রকাশ পাওয়ার বিষয়। বয়োজ্যেষ্ঠদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো, এসব ছোট ছোট আচরণেই শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটে। আবার ছোটদের ভুল হলে বোঝানোও বড়দের দায়িত্ব।

শ্রদ্ধাবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি হলো পরিবার। আর পরিবারের মধ্যে বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। বাবা-মা আমাদের জীবনের শুরু থেকে যে ত্যাগ ও ভালোবাসা দিয়ে পাশে থাকেন, তার প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের সঙ্গে কোমলভাবে কথা বলা, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।

বর্তমানে শ্রদ্ধাবোধ শেখানোর জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ঘরের একজন বয়োজ্যেষ্ঠের কথা মন দিয়ে শোনা, শিক্ষকের প্রতি সম্মান দেখানো, ছোটদের স্নেহ করা ও কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলা, এসবই শ্রদ্ধাবোধের চর্চা।

লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ