ক্ষতির দায় নিতে হবে ঠিকাদারকে

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত রাস্তা, স্থাপনা ও অন্য অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে নতুন শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে এর গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই নিজ দায়িত্বে তা মেরামত করে দিতে হবে। এ জন্য প্রকল্পে বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি ক্লজ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এতে স্থানীয় সরকার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এদিন একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাতটিসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, যেকোনো অবকাঠামো, স্থাপনা বা রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে এর টেকসই ও গুণগত মানকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো রাস্তা বা অবকাঠামোর গুণগত মান তিন বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা নিজ দায়িত্বে ঠিক করে দিতে হবে। এ বিষয়ে সাধারণ নির্দেশনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ক্লজ রাখা হচ্ছে, যাতে ঠিকাদাররা তা করতে বাধ্য হন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্পর্ক নেই। অনেক আগে থেকেই এসব প্রকল্পের প্রস্তুতি চলছে। ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে আরও প্রকল্প আসবে।

প্যারিসে বাংলাদেশের চ্যান্সারি ভবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশ যে চ্যান্সারি ভবনটি কিনেছে, সেটির সংস্কারকাজে ফ্রান্সের স্থপতি ও একটি ফরাসি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্থপতিরাও যাতে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো দূতাবাসের ভেতরের আয়োজনে বাংলাদেশের একটি দেশীয় ছাপ রাখা। প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন স্থপতিরা এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবেন।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক থেকে আট নং জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প’, ‘সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প’, ‘সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধন)’।

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প’; রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প (বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ)’; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন’; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কি.মি. এ ২য় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ এবং ‘থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ‘জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।