দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা

আপস করেও জামিন মেলেনি এমপি নজরুলের

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আপস করেও জামিন পেলেন না জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরার-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। গতকাল বুধবার জামিনের আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

জামিনের আবেদন নাকচের কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারক বলেন, ‘আসামি শুধু বয়স্ক, এ জন্য বা আপস অযোগ্য ধারার মামলায় আপসনামা দিয়েছে। কিন্তু ভিকটিম (ভুক্তভোগী) একজন অতি অল্পবয়স্ক। তিনি বিভিন্ন নোট লিখে গিয়েছেন। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগী আত্মহত্যা করেছেন। আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অবস্থায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে। আসামি জামিনে গেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সমাজে ন্যায়বিচার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা হতে পারে।’ এ সময় মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) মো. মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক বাদীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি আপস করেছেন?’

বাদী বলেন, ‘হ্যাঁ।’

বিচারক বলেন, ‘ভিকটিম আপনার কী হয়’?

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমার মেয়ে হয়।’

এরপর জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এটা আপসযোগ্য মামলা নয়। আপসনামা দাখিল করা বেআইনি। এটা কোনোভাবে আদালতে দাখিল করতে পারেন না। অনেক মামলায় দেখেছি, বাদীও অনেক সময় আসামি হয়েছে। তাই প্রয়োজনে এই মামলার বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।’

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকায় গাজী নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। বাদী অভিযোগ করেন, নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছে।

ঘটনার পরদিনই গ্রেপ্তার করা হয় গাজী নজরুলকে। এরপর দুই দফা রিমান্ড শেষে তিনি এখন রয়েছেন কারাগারে। একই মামলায় নজরুলের মামা শ^শুর (মরিয়মের মামা) ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন। একই মামলায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেয় ঢাকার একটি আদালত।