'বগা আমার গাড়িতে উঠেছে প্রমাণ দিন, রাজনীতি ছেড়ে দেব': মেয়র শাহাদাত

পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারী বগা’কে নিজের গাড়িতে করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ভবন থেকে বের করে নেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র বলেন, ওয়াকিল তার গাড়িতে উঠেছিলেন—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়েরও আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাঁ রূপসা বেকারি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মেয়র।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি সিটি করপোরেশন ভবন থেকে প্রকাশ্যেই গাড়িতে ওঠেন। ভবনের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফলে ওয়াকিল তার গাড়িতে উঠে বেরিয়ে গেছেন- এমন অভিযোগ থাকলে ফুটেজ দেখিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকলে যারা এ ধরনের দাবি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চসিক ভবনে ওয়াকিল আশ্রয় নিয়েছিলেন- এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন মেয়র। তার ভাষ্য, ওয়াকিল নিজে তার কাছে আসেননি; বরং ওয়াকিলের দুই ভাই একটি অভিযোগ নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

মেয়র বলেন, ওয়াকিল যদি সিটি করপোরেশন ভবনের নিচে থেকেও থাকেন, তাকে গ্রেপ্তারের দায়িত্ব পুলিশের। কোনো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সিটি করপোরেশনের বাইরে অবস্থান করলে তাকে আইনের আওতায় আনা পুলিশের কাজ, মেয়রের নয়।

ওয়াকিলকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করার বিরোধিতা করেন মেয়র শাহাদাত। তিনি বলেন, ওয়াকিল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল।

মেয়রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওয়াকিলের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি মামলা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন সবার জন্য উন্মুক্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে এখানে আসেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর মেয়র নন; চট্টগ্রামের সব মানুষের মেয়র।

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারী বগা’ পুলিশের তালিকাভুক্ত হিসেবে পরিচিত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি এক কলেজশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার অনুসারীদের হামলায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার অভিযোগ করেছে পুলিশ। এর আগে ওসিকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও আলোচনায় আসেন ওয়াকিল।

বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুন তাকে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।