ইজারা ছাড়াই ফকিরনীর হাটে টাকা আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

 কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনীর হাট রাস্তারমাথা বাজারে ইজারা বা সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই বাজারকরের (খাস কালেকশন) নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইদ্রিস হায়দার নয়নের বিরুদ্ধে। 

তিনি বড়উঠান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ওই এলাকার বাসিন্দা। রবিবার (৪ অক্টোবর) থেকে তিনি লোকবল নিয়ে প্রকাশ্যে টাকা আদায় করছেন। কিন্তু কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দাবি, বাজারটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। ফলে অর্থ আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জুলধা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, এতদিন ইজারাবিহীন এই বাজারের খাস কালেকশন আদায় করে আসছিল ভূমি অফিস এবং সংগৃহীত অর্থ রশিদের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হতো।

তবে কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মোহাম্মদ রাশেদের নির্দেশের পর খাস কালেকশন আদায় বন্ধ রাখে ভূমি অফিস।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা ইদ্রিস হায়দার নয়ন দাবি করেন, ইউএনও কার্যালয় থেকেই তিনি বাজারটির খাস কালেকশনের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা বা ভূমি অফিস থেকে তাকে কোনো লিখিত কাগজপত্র দেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে জুলধা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অরুণ বড়ুয়া বলেন, ‘গত রবিবার বাজারে খাস কালেকশনের টাকা আদায় করতে গেলে বিএনপি নেতা ইদ্রিস হায়দার নয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারীকে বারণ করেন। নয়ন জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে তিনি বাজারের খাস কালেকশন আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এরপরই সার্টিফিকেট সহকারী রাশেদও খাস কালেকশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সার্টিফিকেট সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইউএনও কার্যালয়ে শিখা সিংহ উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে থাকলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন রাশেদ এবং এই সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

তবে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম স্পষ্ট বলেছেন, ‘বাজারটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।' তার দাবি, 'ভূমি অফিসের মাধ্যমে খাস কালেকশন আদায় করা হচ্ছে।’

ইউএনওর এই বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপি নেতার দাবির স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। 

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আদায় করা অর্থ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সরকারি রাজস্ব ব্যাহত হয়েছে কি না এবং কোনো পক্ষ অবৈধভাবে লাভবান হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।