মানসিক রোগীকে হাতকড়া পরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটক ২

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মানসিক রোগীকে হাতকড়া পরিয়ে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনায় উত্তরার লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে তাদের আটক করা হয় এবং এ সময় তাদের কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত বেআইনি হাতকড়াটি জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের লাইটহাউস রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কর্মী মো. জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ (৪৭) ও মো. আমিনুর ইসলাম (৪২)। হাতকড়াটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ প্রেক্ষাপটে রিহ্যাব সেন্টারটির দুই কর্মীকে আটক করল পুলিশ। এ বিষয়ে সেন্টার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুর থানার স্যার সৈয়দ রোডের একটি বাসায় ৪-৫ জন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা বাসাটি থেকে ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে জোর করে নিচে নামিয়ে আসেন। তারা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, যে ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। তার পরিবারের সদস্যরা পৃথক স্থানে থাকেন। তার ছোট ভাই তাকে চিকিৎসার জন্য উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের লাইটহাউস রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আগেও তাকে একই সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানার মাধ্যমে সেন্টারটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। মোহাম্মদপুর থেকে ওই ব্যক্তিকে এই সেন্টারে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

পুলিশ বলছে, তারা রিহ্যাব সেন্টারটির মালিকের কাছে হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে জানতে চায়। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ব্যক্তিকে রিহ্যাবে নেওয়ার সময় তারা হাতকড়া ব্যবহার করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাতকড়া পরানোর অনুমোদন রিহ্যাব সেন্টারের নেই। হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

আটক ব্যক্তিদের ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তারা বলছে, এই ব্যক্তিদের ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন আদালত।