হাসান-শরীফুলদের সামনে নিজেদের শক্তি মাপতে চায় আফগানরা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অবিস্মরণীয় সাফল্য কুড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের লাল বলের শক্তির পরিমাপ করতে প্রস্তুত আফগানিস্তান। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া লিটন-হাসানদের বিপক্ষে এই একমাত্র টেস্ট সিরিজটিকে নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার বড় এক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন আফগানিস্তান দলের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস।

ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় এবং সিরিজ ড্রয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর তাদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে আফগান শিবির বেশ সতর্ক ও রোমাঞ্চিত। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের কোচ রিচার্ড পাইবাস বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় সফল একটি সফর শেষ করে এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য টেস্ট ফরম্যাটে আমরা ঠিক কোন অবস্থানে আছি, তা যাচাই করে নেওয়ার একটি দারুণ সুযোগ।’ 

লাল বলের ক্রিকেটের প্রস্তুতি ও দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাইবাস আরও যোগ করেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যখন আপনি প্রস্তুতি নেন, তখন লাল বলের ফরম্যাটে আসার পর কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় থাকে। প্রথম বিষয়টি হলো আপনার নিজের খেলার ওপর পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া। আমাদের জন্য যা ইতিবাচক হয়েছে তা হলো, আফগানিস্তানে ছেলেরা প্রথম শ্রেণির লাল বলের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ফলে আমাদের অনেক খেলোয়াড় দীর্ঘ ফরম্যাটে খেলে ক্রিকেটের ওই নির্দিষ্ট ধরনের ফিটনেস অর্জন করেছে এবং উইকেটে ও মাঠে পর্যাপ্ত সময় কাটিয়েছে।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টেস্ট লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা সমানে-সমান। দুই দল এর আগে দুবারে মোকাবেলায় জিতেছে একটি করে ম্যাচ। যার মধ্যে সবশেষ ২০২৩ সালে মিরপুর টেস্টে আফগানদের ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল শান্ত-মিরাজরা। সেখানে সফরকারীদের পেস তোপে বেশ ভুগিয়েছিলেন শরীফুল-তাসকিন-এবাদতরা। 

তবে আসন্ন এই টেস্ট দলে তাসকিন না থাকলেও আছেন দারুণ ছন্দে থাকা হাসান মাহমুদ। তাই তো প্রতিপক্ষের মূল চ্যালেঞ্জ মূলত বাংলাদেশের বোলারদের সামনেই। সেই চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের বোলারদের সামলানোর কৌশল নিয়ে আফগান কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি মূলত এ নিয়েই। আপনি যখন গতিময় বোলারদের মুখোমুখি হবেন, সে তারা ডানহাতি হোন বা বাঁহাতি, পেসার হোন বা সুইং বোলার। এটি কোনো ক্লাব ক্রিকেট নয়। আমি বলতে চাচ্ছি, এই বোলাররা অত্যন্ত অভিজ্ঞ।’

এছাড়া টেস্ট দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটি মূলত আমাদের নিজেদের খেলা, ক্রিকেটীয় সচেতনতা এবং তা ব্যবস্থাপনা করা নিয়ে। একটি টেস্ট দল হিসেবে আমরা যেভাবে বিকশিত হচ্ছি, তাতে ইনিংস গড়ার মতো বিষয়গুলোর দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। শুধু দল হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবেও ইনিংস গড়ার কাজটা করতে হবে।’ 

আগামীকাল (শুক্রবার) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে দুই দলের মধ্যকার এই একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। এই সিরিজ শেষে আবু ধাবিতেই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।