রাজধানীতে ছোট ভাইকে খুনের অভিযোগে বোন ও ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার

রাজধানীর শাহজাহানপুরে জমিজমা ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে বড় বোন ও বোনজামাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছেন। নিহতের নাম ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪)। এই ঘটনায় নিহতের বড় বোন নুর আফসানা নিপা ও তাঁর স্বামী আবদুস সামাদ সুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে পুলিশ উত্তর শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদ গলির ৪৭৬/বি নম্বর বাড়ির ছাদের সেমিপাকা বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছোট বোন নার্গিস সুলতানা জানান, ওই বাড়িটির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা তার বড় বোনের। আর চতুর্থ তলা তার (নার্গিস)। ছাদে সেমিপাকা টিনশেড দুটি রুম তৈরি করে সেখানে স্ত্রী সাদিয়া আক্তার শম্পাকে নিয়ে থাকতেন ফখরুল হাসান। ফখরুল হার্টের রোগী। এ ছাড়া প্যারালাইজড। তাঁর স্ত্রী সাদিয়া আক্তার গার্মেন্টসকর্মী। তাঁদের কোনো সন্তান নেই।

তিনি জানান, বাড়িটি তাদের দুই বোনের হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তার ভাইকে বাসার ছাদে সেমিপাকা টিনশেড ঘর তুলে থাকতে দিয়েছিলেন। তবে ভাইয়ের কাছ থেকে গ্যাস ও পানির বিল আদায় করতেন বড় বোন। আর্থিক সংকট ও অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো বিল দিতে না পারায় ভাইয়ের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন বড় বোন। প্রায় সময় বাসায় এসে ঝগড়াঝাঁটি করতেন এবং তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলতেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসের পর থেকে তাঁদেরকে খুব জোর দিচ্ছিলেন বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে।

তিনি জানান, বুধবার ফখরুলের স্ত্রী যখন কর্মস্থল থেকে রাত সাড় ৯টার দিকে বাসায় ফেরেন, তখন তাকে বিছানায় রক্তাক্ত মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ওই বাসায় যায় এবং ওই বাসার নিচতলা থেকেই বড় বোনকে আটক করে।

পরে বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বড় বোনের স্বামী হেলমেট পরে বগলের নিচে একটি ধারালো চাপাতি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এরপর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে বড় বোনকে। আর অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তার বোনের স্বামীকে। উদ্ধার করে ধারালো অস্ত্রও।

এদিকে শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, জমিজমা ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে তাদের ভাই-বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-ঝামেলা চলছিল। তার জের ধরেই বড় বোন ও বোনজামাই বুধবার সন্ধ্যা সাড় ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় ছাদে তার রুমে ঢুকে গলা কেটে ও কুপিয়ে খুন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় তার বড় বোন এবং বোনজামাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।