চট্টগ্রামে অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় সাবেক পুলিশ সার্জেন্টের কারাদণ্ড

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বেলায়েত হোসেন নামে সাবেক এক পুলিশ সার্জেন্টকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই আইনে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকা। পাশাপাশি আয়কর নথিতে তার ঘোষিত ব্যয় ও খরচের পরিমাণ পাওয়া যায় ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা। বৈধ আয়ের সঙ্গে তুলনা করে ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত হোসেন নিজের নামে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে যাচাইয়ে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে তিনি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

২০০৯ সালের ২০ জুলাই সাবেক এই পুলিশ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলায় দুদকের পক্ষে আদালতে ১০ সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়।