রহস্যময় খামে ব্যালন ডি’অর কেনার প্রস্তাব!

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’। মঞ্চের আলো ঝলমলে আয়োজনে যখন কোনো তারকা বিজয়ের হাসি হাসেন, তখন তার নেপথ্যে থাকে বছরের পর বছর ধরে ঘাম ঝরানোর গল্প। 

তবে চকচকে এই ট্রফির পেছনে যে তদবির, লোভ আর রহস্যময় খামের মতো নানা কালো অধ্যায়ও লুকিয়ে থাকতে পারে, তা সম্প্রতি ফাস করেছেন ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর সাবেক প্রধান ও ব্যালন ডি’অরের রূপকার পাস্কেল ফেরে। দীর্ঘ ৩০ বছর এই পুরস্কার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তির মুখেই শোনা গেছে এক অভিনব ঘুষের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সেই রহস্যময় খাম

স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাস্কেল ফেরে স্মরণ করেন তার ক্যারিয়ারের এমন এক মুহূর্তের কথা, যা যেকোনো সিনেমার থ্রিলারকেও হার মানায়। এক মনোনীত ফুটবলারের হয়ে তদবির করতে আসা সেই এজেন্ট নিজের মক্কেলের পক্ষে জুরিদের প্রভাবিত করার সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাকে।

সেই ফেরে মার্কাকে বলেন, ‘হ্যাঁ, কথাটা একদম সত্যি। এক এজেন্ট আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই, তার খেলোয়াড়টি তখন মনোনীতদের তালিকায় ছিল। খেলোয়াড়ের নানা অর্জন ও সাফল্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, জুরিদের কাছে আমি তার প্রার্থিতাকে বিক্রি করতে পারি কি না।’

প্রস্তাবটি শক্ত হাতে প্রত্যাখ্যান করার পর সামান্য সময়ের জন্য একটি ফোন কল রিসিভ করতে টেবিল থেকে উঠতে হয়েছিল ফেরে। আর ফিরে এসে তিনি দেখেন সেই এজেন্ট উধাও, তবে টেবিলের ওপর ফেলে গেছেন একটি অজানা খাম। লোভের বশে খামটি না খুলে সোজা রিসেপশনে জমা দিয়ে দেন তিনি। আজ পর্যন্ত সেই খামে কী ছিল কিংবা কোন খেলোয়াড় বা এজেন্টের সেই কারসাজি ছিল, তা এক রহস্যই থেকে গেছে।

অতিরিক্ত প্রচারণা কি জুরিদের বিরক্ত করে?

বর্তমান সময়ে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল কিংবা হ্যারি কেইনদের মতো তারকাদের আক্রমণাত্মক ও আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ফেরে। ফরাসি পত্রিকা ‘লে পারিজিয়েন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ভোটাররা বোকা নন।

খেলোয়াড়দের এই অতি-প্রচারণা যে হিতে বিপরীত হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করে ফেরে লে পারিজিয়েন-কে বলেন, ‘ভোটাররা এতটাও বোকা নন। একজন খেলোয়াড়কে দশ থেকে পনেরো বার সে নিজেই যে সেরা, সেটা শুনতে না দিয়েই তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করার মতো অভিজ্ঞতা ও বিচারবুদ্ধি তাদের রয়েছে। যখন কোনো খেলোয়াড় অপ্রীতিকরভাবে প্রচারের আলোয় থাকার চেষ্টা করেন, তখন ভোটাররা ভাবেন যে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এই ধরনের মাতামাতি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের শুধু বিরক্তই করে, কারণ তখন কারসাজিটা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’