'সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের চেয়ে বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাই', আবুধাবিতে শান্ত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের রেশ এখনো টাটকা। তবে সেই সাফল্যকে পেছনে ফেলে নতুন পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ভেন্যু আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টে তাই বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু প্রতিপক্ষকে সামলানো নয়, একই সঙ্গে নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ম্যাচটি আলাদা হয়ে থাকবে আরেকটি কারণে। প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলতে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলেছে নিজেদের ঘরের মাঠে। এবার আফগানিস্তান 'হোম' দল হলেও ম্যাচটি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আফগানদের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অবশ্য মিশ্র। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় স্বাগতিকরা ২২৪ রানে হারে। চার বছর পর ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে জয়-পরাজয় এখন ১-১ সমতায়।

তবে এবার প্রেক্ষাপট আলাদা। আবুধাবির প্রচন্ড গরমের পাশাপাশি আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি নিজেদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পরিকল্পনাও দ্রুত কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশকে। এ কারণেই ম্যাচের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, 'অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের একটি ভালো সিরিজ গিয়েছে। তবে ওটা অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ। সেজন্য আমাদের সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের কিছু খেলোয়াড় একটু আগেই চলে এসেছে এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। সেটা এই কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তাই আমি বিশ্বাস করি খেলোয়াড়েরা প্রস্তুত এবং তারা কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সাথে মানিয়ে নেবে।'

যদিও প্রস্তুতির ভালোই হয়েছে সফরকারীদের। টেস্ট দলের বেশ কয়েকজন সদস্য আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সেও এসেছে কিছুটা ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সংস্করণে দলটির উন্নতির পেছনে কঠোর পরিশ্রমের কথা বলছেন শান্ত। তবে তার চোখে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে ভিন্ন কন্ডিশন ও ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের মান ধরে রাখা।

এনিয়ে শান্ত বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে আমরা বিশেষ করে এই সংস্করণে ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং টেস্ট দল হিসেবে আমরা এটাই চেয়েছিলাম। আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি কীভাবে আমাদের টেস্ট ক্রিকেট উন্নত করা যায় সে চেষ্টা করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দক্ষতা উন্নত করতে অনেক কাজ করতে হবে, বিশেষ করে এই ফরম্যাটে এবং ভিন্ন কন্ডিশনে ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে। আমরা যেমনটা বললাম ভালো ক্রিকেট খেলেছি, কিন্তু তারপরেও আমাদের অনেক কিছু উন্নত করা প্রয়োজন।'

অন্যদিকে আধুনিক ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সীমিত ওভারের লিগের ব্যস্ততা বাড়ায় টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ ধরে রাখা কতটা কঠিন-সেটিও উঠেছে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। শান্তর কাছে অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটের আবেদন এখনো আলাদা। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সীমিত ওভারের ব্যস্ততার মধ্যেও লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন তিনি, 'আজকাল এটা কঠিন, কিন্তু এটা নিয়ে আমাদের করার কিছু নেই। তবে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এবং আমরা যখন বড় হচ্ছিলাম, আমরা সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম। আপনি যদি বেশিরভাগ ক্রিকেটারকে জিজ্ঞেস করেন, তারা সবাই আপনাকে বলবে যে আমরা সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম। তাই টেস্ট ক্রিকেট যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সবসময় খুব বিশেষ। তাই আমি বিশ্বাস করি, আজকাল আমরা যদি সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরও বেশি ম্যাচ ও সিরিজ খেলি, তবে এই আকর্ষণ একই থাকবে। তবে আমরা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের খেলাগুলো থেকে দূরে থাকতে পারি না, কিন্তু আমরা সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি এবং আমি সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের চেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে চাই।'