আড়াইহাজারে পাগলা কুকুরের কামড়ে ২ দিনে আহত ৫৪

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পাগলা কুকুরের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৫৪ জন। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের এলোপাতাড়ি কামড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া চৈতনকান্দা, দয়াকান্দা, উচিৎপুরা, বালুয়াকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও কুকুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স নার্গিস আক্তার বলেন, গত বুধবার কুকুরের কামড়ে আহত ৩৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও ১৯ জন আসেন। একসঙ্গে এত রোগী আসায় তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, একটি পাগলা কুকুর কয়েক দিন ধরে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুযোগ পেলেই মানুষকে কামড় দিচ্ছে। যাকে যখন সামনে পাচ্ছে, তাকেই কামড়াচ্ছে। এতে বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

বালুয়াকান্দি মাদরাসার শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে একটি পাগলা কুকুর এলোপাতাড়ি কামড়ে তিনজনকে আহত করেছে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রেজাউল করিম আরও বলেন, একের পর এক মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ায় এখন রাস্তাঘাটে চলাচল করতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় শিশুদের একা বাইরে পাঠাতে চাইছেন না অভিভাবকেরা। দ্রুত পাগলা কুকুর শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আরিফ ভূঁইয়া বলেন, আহত ৫৪ জনকে হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকায় তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়নি।

আহত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ডা. আরিফ বলেন, কুকুর কামড়ালে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ক্ষতস্থানে কোনো ধরনের মাটি, চুন, মরিচ বা ঘরোয়া উপাদান দেওয়া উচিত নয়। এরপর দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

পাগলা কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সামনে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকায় তারা পাগলা কুকুর নিধন করতে পারছেন না। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।