রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

পদত্যাগে বাধ্য ভিসিকে নিয়ে প্রবেশ করলেন বিএনপি নেতারা

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে মব সৃষ্টি করে দেওয়া তালা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। একই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এই ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন মব সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করা উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারাও ছিলেন।

গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে তালাবদ্ধ ছিল উপাচার্যের কক্ষ। এই সময়ে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভাঙা হয় বহিরাগতদের দেওয়া তালা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মব সৃষ্টি ও জোরপূর্বক উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করার  ঘটনায় বুধবার রাতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন রাজশাহী নগরীর বহরমপুর এলাকার আলী আকবর হোসাইন এবং একই এলাকার দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলাল। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিকে, মব সৃষ্টির সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতারাই উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। সকালে উপাচার্যকে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তার পাশে ছিলেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, ছাত্রদল নেতা আকবর আলী জ্যাকি, এমদাদুল হক লিমন ও আবিরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।

শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নির্দেশনায় তারা উপাচার্যকে সসম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসেছেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকা-কে প্রশ্রয় দেয় না। অনাকাক্সিক্ষত ওই ঘটনায় দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়নাল আবেদিন শিবলী বলেন, সরকার কোনো ধরনের মবকে প্রশ্রয় দেয় না। রামেবির ঘটনায় মামলা হয়েছে, যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে তিনি বলেন, দলের কেউ এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটায়। তারা উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকের কক্ষে গিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ স্থানীয়দের না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ করে। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের লিখে আনা একটি পদত্যাগপত্রে উপাচার্যকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এরপর তারা সেকশন অফিসার নাজমুলকে মারধর করে চাকরির ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর নেয়। তারপর উপাচার্যকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে মব সৃষ্টির সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। এ ঘটনায় ওই রাতেই ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।