পেটে গজ রেখে সেলাই

৬ মাস পর মারা গেলেন ফরিদপুরের সেই বিথী

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এর প্রায় ছয় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা ও ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার। টানা যন্ত্রণাময় চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিথী আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।

বিথী আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজউদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে গোয়ালন্দের জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করতেন। জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সে সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে এই অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। স্বজনদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় তার পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তীব্র পেটব্যথাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিলে চিকিৎসকরা তার পেটে পুনরায় বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এরপর ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ অক্টোবর বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজের নবজাতক সন্তানকে ঠিকমতো কোলে তুলে নেওয়ার সুযোগও পাননি বিথী। বিথী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কয়েকদিন আগে আমি নিজে বিথীর শিশুকে দেখতে গিয়েছিলাম। গতদিন জেলা প্রশাসকও শিশুটিকে দেখতে গিয়েছিলেন।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই বিথীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করব। তিনি বলেন, আমাদের ছোট্ট শিশুটিকে এখন কীভাবে সামলাব, বুঝতে পারছি না। আর কোনো পরিবারের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

বিথীর পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।