সময় নাকি সব ক্ষত সারিয়ে দেয়, আর আট বছর তো অনেকটা সময়! তবুও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ফিরতেই আবারও উঁকি দিচ্ছে ২০১৮ সালের সেই আলোচিত ‘স্যান্ডপেপার’ কেলেঙ্কারির স্মৃতি। সেই ডারবানেই দীর্ঘ আট বছর পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। মাঝের এই সময়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) গত আসরের ফাইনাল খেলেছে তারা, যেখানে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রোটিয়ারা। তাই এবার ঘরের মাঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াই কেবল পুরনো হিসাব মেলানোর ম্যাচ নয়, বরং পরবর্তী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের সমীকরণও ঠিক করে দেবে।
সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের কাছে অতীত বিতর্ক যতই চমকপ্রদ হোক না কেন, দুই দলের জন্য খেলার মাঠে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। লর্ডসে অজিদের হারিয়ে খেতাব জেতার পর থেকে খুব বেশি লাল বলের ক্রিকেট খেলা হয়নি বাভুমা-রাবাদাদের। গত ১৭ মাসে ঘরের মাঠে কোনো টেস্টও খেলেনি তারা। ফলে নিজ মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে আবারও ধরাশায়ী করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার পথ সুগম করার দারুণ সুযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে এক ঐতিহাসিক পথচলায়। প্যাট কামিন্সের এই অভিজ্ঞ দলটি আগামী ১২ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব জয়ের মিশনে নেমেছে। তবে সম্প্রতি ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট হেরে ধাক্কা খেয়েছে তারা। ওই ম্যাচে ফ্ল্যাট ট্র্যাকে বাংলাদেশের স্পিন ও ধৈর্যের কাছে অস্ট্রেলিয়ার বয়স্ক বোলিং আক্রমণ ও ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
বাংলাদেশের দেখানো পথ ধরেই অস্ট্রেলিয়াকে পরাস্ত করার রসদ পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে স্বাগতিকদের নিয়েও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর ঘরের মাঠে কোনো টেস্ট খেলেছে তারা, আর সবশেষ টেস্ট খেলেছে গত বছরের নভেম্বরে। চোটের কারণে পেস আক্রমণের বড় অস্ত্র কাগিসো রাবাদা প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন এবং লুঙ্গি এনগিডি আগেই বাদ পড়েছেন। ব্যাটিংয়েও রয়েছে চোট সমস্যা, দলের অন্যতম ব্যাটার টনি ডি জর্জি খেলছেন না।
ডারবানের কিংসমিডে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই দলই স্পিনের ওপর বাড়তি জোর দিচ্ছে। দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমারকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই সপ্তাহ আগে এই মাঠেই ওয়ানডেতে অজি ব্যাটারদের নাচিয়ে ছেড়েছিলেন মহারাজ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও একাদশে বাড়তি স্পিন অপশন যোগ করার কথা ভাবছে।
ইতিহাস অবশ্য বলছে, ডারবানের প্রথম ম্যাচেই সিরিজের ভাগ্য চূড়ান্ত হয়ে যায় না। ২০১৮ সালেও প্রথম টেস্ট জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু পরের তিন টেস্টের সঙ্গে নিজেদের সম্মানও হারিয়েছিল তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সফরকারী দলের ধীরগতির সূচনা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘ বিরতির পর ফেরা সব মিলিয়ে এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ম্যাচের একদিন আগেই তার প্রথম একাদশ ঘোষণা করেছেন। সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফিরছেন গতিদানব আনরিখ নরকিয়া। আর ৩ নম্বরে নামবেন ডেভিড বেডিংহাম। দুই পেসার ও দুই স্পিনারের সঙ্গে অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন উইয়ান মুল্ডার।
গত কয়েক টেস্ট ম্যাচ ধরে অস্ট্রেলিয়া আগেই একাদশ ঘোষণা করলেও, এ ম্যাচে তার টসের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে করতে চায়। চোট পাওয়া ক্যামেরন গ্রিনের জায়গায় ৫ নম্বরে বিউ ওয়েবস্টার ও ৭ নম্বরে বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিন অলরাউন্ডার কুপার কনলিকে দেখা যেতে পারে।
ডারবানের উইকেটে হালকা ঘাসের ছোঁয়া রয়েছে এবং খেলার দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পিচে স্পিনাররা টার্ন পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১০ টেস্টে ৮ জয়ে ৮০ পয়েন্ট পার্সেন্টেজে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থেকে এই সিরিজ শুরু করছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান দ্বিতীয়তে। তবে তারা খেলেছে মাত্র ৪ টেস্ট। তিন জয়ে তাদের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ ৭৫। এই সিরিজে তিন ম্যাচ খেলার পর দেশের মাটিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি টেস্ট খেলবে। এরপর ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন টেস্ট টেস্ট আছে তাদের। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজের পর নিউজিল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে ৯ টেস্ট আছে।