কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। বাংলাদেশ দল নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার সে দেশে টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করে দেশে ফেরে ছেলেদের ক্রিকেট দল। এবার নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি মেয়েদেরও। নিগার সুলতানা জ্যোতিরা প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গেছেন। সেখানে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে চান সফরকারীরা।
এ নিয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, ‘আমি মনে করি বর্তমানে উপস্থিত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি যে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে খেলতে পারি। কারণ আমাদের বিশ্বাস, আমরা এমন একটি দল যারা ঐক্যবদ্ধভাবে খেললে এবং পূর্ণ ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করলে যেকোনো দলকে চমকে দিতে পারি।’
তবে কাজটা যে সহজ হবে না, সেটি পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। সবকটি ম্যাচই জিতেছে অজিরা। অর্থাৎআজ শুধু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই নয়, তাদের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম জয়ের খোঁজে নামবে বাংলাদেশ নারী দল। ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯.৫০টায়।
প্রায় ছয় মাস পর ওয়ানডেতে ফিরছে জ্যোতির দল। এই সংস্করণে সর্বশেষ গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল মেয়েরা। দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডেতে ফিরেই সামনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের চ্যালেঞ্জের সামনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ জন্য এই সিরিজের আগে সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবার আগেভাগেই পৌঁছেছেন জ্যোতিরা। অনুশীলনের পাশাপাশি কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন। সে ম্যাচেও বোলাররা কিছুটা ভালো করলেও ব্যাটাররা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।
এবার মূল সিরিজের লড়াই। যদিও মাঠে নামার আগে উচ্ছ্বসিত জ্যোতি, ‘হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই রোমাঞ্চিত এবং এখানে এসে বেশ খুশি। আপনি জানেন, ভিন্ন কন্ডিশনে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং এবং আমাদের দল বেশ ভালো দেখাচ্ছে। আমরা এখানে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি, তাই সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমাদের কিছু ধারণা তৈরি হয়েছে। এটি মূলত একটি টিম গেম এবং আমরা নিজেদের মতো করে সবকিছু উপভোগ করতে চেয়েছি।’
এদিকে নতুন প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পের অধীনেও এটি বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ। দায়িত্বের শুরুতেই বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে দলের বিপক্ষে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাকে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলেও হেম্প ফলের চেয়ে দলের মানসিকতা ও ইতিবাচক ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, ‘আমরা যে বিশ্বের সেরা নারী দলের বিপক্ষে খেলছি, সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণেই তারা এক নম্বর দল। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিষয়টা মানসিকভাবে গ্রহণ করা। তারা খুব ভালো দল, দারুণ কিছু খেলোয়াড়ও আছে। তবে দলের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা মূলত ম্যাচের মধ্যে ইতিবাচক থাকা।’