অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের আনন্দটা এখনো টাটকা। কিন্তু সেই স্মৃতি আঁকড়ে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের। এ সাফল্যকে একপাশে রেখে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক পরীক্ষায় নামছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ থেকে আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু একমাত্র টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। এ ম্যাচটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ঐতিহাসিক হিসেবে জায়গা পাচ্ছে। কারণ এই প্রথম কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে নামছেন তারা।
দেশের বাইরে এর আগে অনেক টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা আলাদা। আফগানিস্তানের ‘হোম’ সিরিজ হলেও ম্যাচটি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বাংলাদেশের জন্য শেখ জায়েদ স্টেডিয়াম পুরোপুরিই নতুন টেস্ট মঞ্চ। এ মাঠে অনেকবার সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ম্যাচ খেললেও কখনো টেস্ট খেলেননি শান্তরা। সেখানকার তপ্ত রোদও বাড়তি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সফরকারীদের।
এ নিয়ে গতকাল ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের একটি ভালো সিরিজ গেছে। তবে ওটা অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ। সে জন্য আমাদের সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের কিছু খেলোয়াড় একটু আগেই চলে এসেছে এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। সেটি এ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তাই আমি বিশ্বাস করি, খেলোয়াড়রা প্রস্তুত এবং তারা কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নেবে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের দুটি টেস্টই হয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় ২২৪ রানে হারেন স্বাগতিকরা। চার বছর পর মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয়ে সেই হারের জবাব দেন তারা। দুই দলের টেস্ট লড়াই এখন ১-১ সমতায়। এ ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণের সুযোগ থাকছে শান্তদের সামনে। তবে বাংলাদেশের সামনে বাধা হতে পারে শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট। এ মাঠে সর্বশেষ টেস্ট হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে। হাই স্কোরিং সে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৬ উইকেটে হারায় আফগানিস্তান। এর আগে শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া ১৫ টেস্টের মধ্যে ১১টি জয়-পরাজয়ের সাক্ষী হয়েছে।
এই মাঠে ম্যাচের শুরুতে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট তুলনামূলক ভালো থাকলেও সময় গড়ালে রান করা কঠিন হতে থাকে। প্রথম ইনিংসে গড় রান ৩৬০, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪১ রান। তৃতীয় ইনিংসে সেটি কমে ২৭৪ এবং চতুর্থ ইনিংসে ১৩৬ রান। অর্থাৎ টস জিতে আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলা তাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগের ১৫ টেস্টে প্রথমে ব্যাট করা দল জিতেছে ৯টি। বোলিংয়ের পরিসংখ্যানেও স্পিনের সামান্য বাড়তি প্রভাব দেখা যায়। সেখানে স্পিনাররা নিয়েছেন মোট উইকেটের ৫৩.৪২ শতাংশ, পেসারদের দখলে ৪৬.৫৮ শতাংশ। নতুন বলে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পান। ম্যাচ যত এগোয়, স্পিনারদের প্রভাব বাড়তে থাকে।
তবে এসব নিয়ে না ভেবে সাম্প্রতিক টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে বলে দাবি শান্তর, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমরা বিশেষ করে এই সংস্করণে ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং টেস্ট দল হিসেবে আমরা এটাই চেয়েছিলাম। আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি, কীভাবে আমাদের টেস্ট ক্রিকেট উন্নত করা যায়, সে চেষ্টা করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দক্ষতা উন্নত করতে অনেক কাজ করতে হবে, বিশেষ করে এই ফরম্যাটে এবং ভিন্ন কন্ডিশনে ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে। আমরা যেমনটা বললাম, ভালো ক্রিকেট খেলেছি, কিন্তু তারপরও আমাদের অনেক কিছু উন্নত করা প্রয়োজন।’
আবুধাবির প্রচণ্ড গরমও আলাদা পরীক্ষা। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘কন্ডিশন তো একটু গরম, এটা থাকবে। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটা একদমই অজুহাত হিসেবে দেখতে চাই না। আমার মনে হয়, ক্রিকেটাররাও এগুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না। আমার নিজের কথা বললে, সেরে ওঠার প্রক্রিয়া ভালো হয়েছে। এখন সুস্থ আছি। গত দুদিন অনুশীলন করেছি। ভালো অনুভব করছি।’
বাংলাদেশের সাবেক কোচ রিচার্ড পাইবাস কদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের। তিনি বলেছেন, ‘এটি মূলত আমাদের নিজেদের খেলা, ক্রিকেটীয় সচেতনতা এবং তা ব্যবস্থাপনা করা নিয়ে। একটি টেস্ট দল হিসেবে আমরা যেভাবে বিকশিত হচ্ছি, তাতে ইনিংস গড়ার মতো বিষয়গুলোর দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। শুধু দল হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবেও ইনিংস গড়ার কাজটা করতে হবে।’