আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় চরম অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত সাত চিকিৎসাকর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ২০২০ সালে ফুটবল জাদুকরের এই মর্মান্তিক প্রয়াণের নেপথ্যে থাকা ‘বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা’ ও দায়িত্বহীনতাকে কঠোর ভাষায় কাঠগড়ায় তুলে আদালতের এই চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে পৌঁছেছে।
ম্যারাডোনার বিদায়টা কেবল একটি স্বাভাবিক প্রয়াণ ছিল না; বরং তা ছিল চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার এক নির্মম পরিণতি। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার দিনে ফুসফুসে তরল জমে এবং হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬০ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলের অমর এই জাদুকর। সেই বিষাদময় মৃত্যুর বহু দিন পেরিয়ে এবার আর্জেন্টিনার আদালতে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত আইনি লড়াই।
বুয়েনস আইরেসের উপকণ্ঠে একটি ভাড়া বাসায় যখন ম্যারাডোনা জীবনের সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন সেখানে জীবনরক্ষাকারী ন্যূনতম চিকিৎসাসামগ্রী, ডিফিব্রিলেটর কিংবা হাসপাতালের বিশেষ বিছানার ছিটেফোঁটাও ছিল না। চিকিৎসকদের এই চরম দায়িত্বহীনতাকে কাঠগড়ায় তুলে আদালতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরছেন আইনজীবীরা।
আদালতে দেওয়া সমাপনী যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর প্যাট্রিসিও ফেরাই অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন অভিযুক্তদের। তিনি অভিযোগ করেন যে, আসামিদের ‘বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা’ অসুস্থ রোগীকে ‘সম্পূর্ণ সহায়হীন অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল এবং তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল’। প্রসিকিউটর আরও জানান, আসামিরা ‘তাদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন, চিকিৎসাবিদ্যার নিয়মের পরিপন্থী কাজ করেছেন’ এবং যেসব পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, তা সম্পূর্ণ বর্জন করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার আদালতে এই মামলার শুনানি চলাকালীন প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তৎকালীন অবস্থার আরও গভীর চিত্র তুলে ধরা হয়। সহকারী প্রসিকিউটর কোসমে ইরিবারেন আদালতে বলেন, ‘ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার মৃত্যু আকস্মিকভাবে হয়নি; এই মর্মান্তিক পরিণতির লক্ষণ অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছিল।’ অথচ শারীরিক অবনতির সেই স্পষ্ট সংকেতগুলোর প্রতি চরম উদাসীনতা দেখিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।
ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ড লুকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানানোর পাশাপাশি অন্যান্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নার্সদের জন্য ৪ থেকে ১০ বছরের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের দাবি, এই মৃত্যু কেউ আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি এবং তারা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।