যশোরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৪৮ ফ্ল্যাটের ভবন নির্মাণ শুরু

যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাততলাবিশিষ্ট ৪৮টি ফ্ল্যাটের একটি আবাসিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হল রোডসংলগ্ন পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

‘পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব কর্মীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের শ্রম ও নিষ্ঠার ওপর শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। অথচ আবাসনসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব কর্মীকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁদের আবাসন সমস্যা সমাধান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবাসিক ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উন্নত আবাসন সুবিধা পাবেন। এর ফলে তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাততলাবিশিষ্ট ভবনটিতে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট থাকবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও সুশৃঙ্খল হবে। পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নয়নেও তা সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যশোর। শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যথাসময়ে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ শেষ হলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সংকট নিরসনের পাশাপাশি তাঁদের জীবনমান উন্নয়নেও সহায়ক হবে প্রকল্পটি।