কুমিল্লায় ‘কিশোর গ্যাং’ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সি ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা উঠে আসে। ১৮ সেপ্টেম্বর এ হত্যাকাণ্ডের পরই সাঁড়াশি অভিযান নামে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এরপর দিন ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত 'কিশোর গ্যাং'এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জেলার ১৮টি থানা এলাকা থেকে ২৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (৯ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত এ অভিযান চলে। কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা বেশি-এমন স্থান, উঠতি বয়সীদের আড্ডাস্থল এবং বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে এ তল্লাশি চালানো হয়। আটক ব্যক্তিরা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ টিম   জেলার ১৮টি থানায় একযোগে চালানো অভিযান থেকে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৪ অক্টোবর তিন গ্যাংয়ের ‘পাঁচ সক্রিয় সদস্য’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করেছ পুলিশ। ওই দিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম।

এর একদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশেই একটি জঙ্গল থেকে সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৩ বছর বয়সি কিশোরকে হত্যার এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে কিংবা যাদের জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে, তার পুরোটাই কিশোর অপরাধ তথা ‘কিশোর গ্যাং’র দিকেই ইঙ্গিত করে।

এমন প্রেক্ষাটে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গ্যাংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬২৪ জনকে আটক করা হয়।