বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ মেরিটাইম ল’ সোসাইটির (বিএমএলএস) শিপবিল্ডিং অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। শিপ রিসাইক্লিং ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিঙ্কুর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত বিএমএলএস মেরিটাইম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশ্ব মেরিটাইম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএমএলএস। এতে গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানাহ চৌধুরী পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম রিঙ্কুর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিএমএলএসের সভাপতি ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জহিরুল ইসলাম রিঙ্কুর সঙ্গে ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য হাসিব উদ্দিন মোল্লা।
জহিরুল ইসলাম রিঙ্কুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং টেকসই শিল্প ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন শিপইয়ার্ড’ উদ্যোগগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পিএইচপির উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় শিল্পের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। জহিরুল ইসলাম রিঙ্কুর নেতৃত্বে শিল্পটিকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিএমএলএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পিএইচপির অবদান এবং সামুদ্রিক খাতে দায়িত্বশীল ও টেকসই কার্যক্রমের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতি এ পুরস্কার।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে পিএইচপি ফ্যামিলির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গ্রিন ইয়ার্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই বছরের ১০ অক্টোবর ইতালির আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি রিনা প্রতিষ্ঠানটিকে পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে জাহাজ কাটার সনদ দেয়। হংকং কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম দিকের সুরক্ষামূলক শিপইয়ার্ডগুলোর একটি এটি।
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সাল থেকে পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে জাহাজ কাটার কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। গ্রিন ইয়ার্ড হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০১৮ সালের মাঝামাঝি প্রথম জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আনা হয়। ‘ওরি ভিটোরিয়া’ নামের জাহাজটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাটা হয়। ১৯৮৯ সালে জাপানের নিপ্পন কোকান শিপইয়ার্ডে তৈরি বিশেষায়িত জাহাজটির ওজন ছিল ২৭ হাজার মেট্রিক টন। জাহাজটি হংকং কনভেনশন অনুযায়ী গ্রিন তালিকাভুক্ত ছিল।
গ্রিন ইয়ার্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাহাজ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনার ফলে ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও গ্রিন ইয়ার্ড হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাথমিক বিনিয়োগ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বেশি, তবু এ পদ্ধতি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পিএইচপি রিসাইক্লিংকে পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে পুরস্কার ও সম্মাননা দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক বিএমএলএস অ্যাওয়ার্ড প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প কার্যক্রমের ধারাবাহিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।