বই পরিচিতি

রসিক রবীন্দ্রনাথ

বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা অপরিসীম। তার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হলেও একটি দিকের কথা প্রায়ই অনুল্লিখিত থেকে যায়। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অসামান্য রসশিল্পী। রবীন্দ্রনাথের জীবনের সেই অনুল্লিখিত দিকের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাবে রসিক রবীন্দ্রনাথ বইয়ে। এই বইয়ে তার জীবনের নানা বাঁক থেকে তুলে আনা হয়েছে রকমারি হাস্যকৌতুক আর মজার ঘটনা।

এ যুগের পাঠকের কাছে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্ব হয়তোবা হিমালয়ের মতো অটল। অনেকের কাছেই তার ভাবমূর্তি প্রায় ঋষিতুল্য। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে, কবিগুরুকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন তারা জানেন তিনি কতটা সূক্ষ্মদর্শী রসশিল্পী ছিলেন। মুখে মুখে ছোটগল্প বানিয়ে তিনি উপস্থিত সবাইকে চমকে দিতেন। হাসিমুখে, কবিতার ঝরনায়, সুরের প্রবাহে, হাস্যকৌতুকে জীবনের সব দুঃখ গোপন করে গেছেন তিনি। চিরতারুণ্যে উদ্ভাসিত মানসিকতার কারণে তিনি বলে যেতে পেরেছেন, ‘এত বুড়ো কোনোকালে হব নাকো আমি, হাসি তামাসারে যবে কব ছ্যাবলামি।’ তিনি কথার পিঠে কথা বলে আসর জমিয়ে দিতেন তো বটেই, তা ছাড়াও আশপাশের মানুষকে হতবাক করে দিতে নিজেও অংশগ্রহণ করতেন পরিকল্পনায়। একবার কবির সেক্রেটারি অনিল কুমার চন্দ্র দার্জিলিং থেকে এমন একটি চকলেট এনেছিলেন যেটি দেখতে গুবরে পোকার মতো। রবীন্দ্রনাথের পরামর্শ মতো তিনি, মৈত্রেয়ী দেবীর স্বামী ড. মনোমোহন সেন ও কবির আরেক সেক্রেটারি সচ্চিদানন্দ রায় সেটাই খাচ্ছিলেন ন্যাপকিনে ধরে। আর সেটি দেখে সুব্রতা দেবী তীব্র আর্তনাদ করে, জিনিসপত্র ফেলে ঘর মাথায় করেছিলেন। কবিগুরু তাদের এই পরামর্শ তো দিয়েছিলেনই, উপরন্তু তিনি সুব্রতা দেবীকেও হাত দেখে বলেছিলেন, স্পষ্ট দেখছি আজ তোমার কপালে কিছু বিপদ আছে। গম্ভীর চেহারার কবিগুরুকে দেখে কি বোঝা যায়, ভেতরে ভেতরে এমন দুষ্টু তিনি?

রস-অনুসন্ধানী কথাশিল্পী তাপস রায় এমন মজার মজার সব গল্পই তুলে এনেছেন রসিক রবীন্দ্রনাথ বইয়ে। এক মলাটের মাঝে এত আনন্দ ধরে রাখা সামান্য বিষয় নয় মোটেই। আনন্দের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে জানার জন্য রসিক রবীন্দ্রনাথ দারুণ একটি বই। রবীন্দ্রনাথকে ভিন্ন দিক থেকে জানতে রসিক রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থটি অনন্য ভূমিকা পালন করবে।