চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, ১২ জনকে সাজা-অর্থদন্ড

বিদেশে চাকরি ও ওয়ার্কিং ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জনকে আটক করেছে এসআরবি-৪। তাদের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং পাঁচজনকে অর্থদ- করেছে এসআরবি-৪ পরিচালিত মোবাইল কোর্ট। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর দারুস সালামে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের’ আশপাশে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ ও শামীমকে তিন মাস করে, সুজনকে এক মাস, শাহিনকে ২১ দিন, আবুল বাসারকে ১৫ দিন এবং হারুন ও সুরুজ মিয়াকে সাত দিন করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্জয়কে ১০ হাজার টাকা, রেজাউল করিমকে ৫ হাজার , কাইয়ুমকে ৪ হাজার, রিয়াজকে ২ হাজার এবং কামরুন নাহারকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর ছায়া তদন্ত চালানো হয়। এতে চক্রটির সদস্যরা বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের সত্যতা পাওয়া যায়। তারা প্রার্থীদের ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে বিদেশে পাঠানো এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোর নিশ্চয়তা দিতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দিলেও বিদেশে কর্মী পাঠানো বা চাকরির ব্যবস্থা করে না।

অভিযানের সময় আটকদের মধ্যে কয়েকজন ‘জিয়ার সৈনিক’ বলে সেøাগান দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক পরিচয় জানান দেন। এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত থাকার কথা বলে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তবে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।