শরতের স্নিগ্ধতা ও বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যকে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদযাপিত হয়েছে ‘শরৎ উৎসব-২০২৬’।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউজ মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবনের সহযোগিতায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, আবহমান বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে নাগরিক জীবনে নানা রূপান্তর এলেও ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা ও শৈল্পিক প্রকাশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি। তাই শরতের স্নিগ্ধতা ও আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদযাপনের লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস ) গোকুল ভি কে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুই দেশের সম্মিলিত উত্তরাধিকার। উৎসবের ধরন ভিন্ন হলেও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যবোধ দুই দেশের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করে।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ঋতু উৎসবের ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। দুর্গাপূজা, দশমী ও নবমী মতো উৎসব প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন। এসব উৎসবের মধ্য দিয়ে সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপিত হয়। ভারত-বাংলাদেশের এই অভিন্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক।
অনুষ্ঠানে ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীর প্রতীকের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী বীরেন সেন ও সংগঠনটির সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম মিলটনসহ দেশের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।