পানামার দক্ষিণ উপকূলে ৭.৭ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টার আগ মুহূর্তে এই কম্পন অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির মধ্যঞ্চলীয় হেরেরা প্রদেশের কম জনবসতিপূর্ণ লা পিতালোজা এলাকার কাছাকাছি এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে।
ভূপৃষ্ঠের কম গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় পুরো পানামা জুড়ে তীব্র কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রতিবেশী কোস্টারিকা এবং কলম্বিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। কম্পন রাজধানী পানামা সিটিতেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এতে ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় ছুটে আসেন।
ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে ৯টি দেশে সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে যে এই ভূমিকম্পের কারণে বর্তমানে সুনামির আর কোনো বিপজ্জনক ঝুঁকি বা আশঙ্কা নেই।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ভূমিকম্পটিকে একটি ‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের ছোট শহর পিতালোজা আররিবা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা প্রথমে এর মাত্রা ৮.০ নির্ধারণ করলেও পরবর্তীতে তা ৭.৭ মাত্রা হিসেবে নিশ্চিত করে।
ভূমিকম্পের পরপরই পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৯টি দেশের (পানামা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, পেরু, নিকারাগুয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও মেক্সিকো) উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। এ ছাড়া হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জেও সুনামির ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছিল।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মূলত স্থলাভাগে হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে ক্ষতিকর জলোচ্ছ্বাস তৈরির সম্ভাবনা ছিল না। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য দেওয়া সুনামি সতর্কতা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়।
ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে পানামার লস সান্তোস প্রদেশের ঐতিহাসিক সান আতানাসিও গির্জা এবং পেনোনোমে শহরের একটি প্রাচীন ক্যাথেড্রালের চূড়া ও অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। বেশ কিছু হোটেল ও বাড়িঘরে ফাটল দেখা গেছে।
রাজধানী পানামা সিটির টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় চালু করা হয়। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও মেট্রো রেল সেবা সাময়িক বিঘ্নিত হয়।
পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে পানামা খালের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথটিতে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।