দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এসইউএ) গভর্নিং বোর্ডের ষোড়শ সভা গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সব সদস্যরাষ্ট্রের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আরও অংশ নেন সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার, দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অধ্যাপক কে. কে. আগরওয়াল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান সিনিয়র অধ্যাপক কপিলা সেনেভিরত্নে ।
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে সার্কের মহাসচিব সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগ হিসেবে দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সার্কের অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত সারওয়ার দক্ষিণ এশিয়ায় একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক গবেষণার অগ্রগতি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ জোরদারে দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সার্কের মহাসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চলমান প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। তিনি আশা করেন যে, দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও আলোকবর্তিকা হিসেবে উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করবে—যা তরুণ প্রজন্মের মননকে আলোকিত করবে, বিভেদ দূর করবে এবং একটি সমৃদ্ধ, আন্তঃসংযুক্ত ও সম্প্রীতিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার পথ নির্দেশ করবে।
গভর্নিং বোর্ড সভায় প্রতিবেদনকালীন সময়ে দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। এ পর্যালোচনায় একাডেমিক কর্মসূচি, গবেষণা উদ্যোগ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া সভায় শিক্ষক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সদস্যরাষ্ট্রগুলো অব্যাহত সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।
বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনের প্রশংসা করে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে দিকনির্দেশনা প্রদানের বিষয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার তুলে ধরে।
সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশের অধ্যাপক মামুন আহমেদকে গভর্নিং বোর্ডের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।